খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ময়মনসিংহ শহর। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় ছবিটি তুলেছেন উবায়দুল হক।

‘হাওর, জঙ্গল, মহিষের শিং—এই তিনে মৈমিনসিং’—ব্রিটিশ আমলের সুবিশাল ময়মনসিংহের প্রাকৃতিক রূপ নিয়ে প্রচলিত এই লোকপ্রবাদ আজ আর আগের মতো প্রাসঙ্গিক নয়। কালের বিবর্তনে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের এই ঐতিহাসিক জনপদটি এখন আর কেবল জেলা শহরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিব্যবস্থা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তীব্র যানজট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাশয় ভরাট এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ শহরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সুদূরপ্রসারী ভাবনার দাবি জানাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রণীত ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’ একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা। আইনটির লক্ষ্য ময়মনসিংহের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক, দুর্যোগসহনশীল, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনবান্ধব সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা। এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বা নাগরিক সংবাদ পাঠাতে পাঠকদের ns@prothomalo.com ঠিকানায় যোগাযোগ করার সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব প্রায় ৬ হাজার ৩১৫ জন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে মানুষের প্রতিনিয়ত আগমনের ফলে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রূপ পাওয়া ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) দায়িত্ব কেবল ভবনের নকশা ছাড় করাতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মউকের চেয়ারম্যান ভবনের নকশা অনুমোদনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ তদারকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সংস্থাটির জন্য নিজস্ব কার্যালয় ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি, কারণ বর্তমানে জেলা গণপূর্ত ভবনের একটিমাত্র কক্ষ থেকে এর প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শহরের অন্যতম প্রধান ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেকর্ড ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর প্রধান সড়কগুলোয় হাঁটুপানি জমে যায় এবং তা নিষ্কাশন হতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। এর আগে ২০২৫ সালে নগরীর বলাশপুর এলাকায় প্রায় ২ হাজার পরিবারের মৌসুমি জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির চিত্র সামনে আসে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, ড্রেনের অভাব এবং বর্জ্য ফেলার কারণে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেবল বিচ্ছিন্ন ড্রেন তৈরি না করে জলাধার সংরক্ষণ, পরিকল্পিত খাল এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুর বা রিটেনশন পন্ডসহ সামগ্রিক জলপ্রবাহভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণই এর টেকসই সমাধান হতে পারে।

পুরোনো শহরের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ব্রহ্মপুত্র নদের অপর প্রান্তে আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, বিনোদন পার্ক, সাইকেল লেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অবকাঠামোসমৃদ্ধ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক উপশহর গড়ে তোলা যেতে পারে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্ট্রাকচার ও অ্যাকশন প্ল্যান এবং ২০১১-২০৩১ সালের স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের গবেষণা পর্যালোচনার পাশাপাশি জিআইএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নির্ধারণ করা দরকার। একই সঙ্গে পুরো নগরীকে এককেন্দ্রিক না রেখে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি ‘পলিসেন্ট্রিক’ বা বহুকেন্দ্রিক নগর মডেলে রূপ দেওয়া সম্ভব, যা শহরের বর্তমান মারাত্মক অটোরিকশার যানজট নিয়ন্ত্রণে আনবে।

সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শহর ও উপশহরের মধ্যে একটি ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক (আইপিটিএন) গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার মধ্যে নির্দিষ্ট বাস রুট, বিআরটি করিডর, রেল ও নৌপথের আন্তসংযোগ এবং নির্দিষ্ট পার্কিং হাব থাকবে। কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় নতুন ল্যান্ড ইউজ জোনিং ম্যাপের মাধ্যমে কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে পরিবেশ ও প্লাবনভূমি রক্ষা করে একটি সমন্বিত ‘রিভারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ প্রণয়নের মাধ্যমে ‘রিভার সিটি’র ধারণা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আইনে উল্লিখিত দিকনির্দেশনা মেনে নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী ও বস্তিবাসীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘মিক্সড ইনকাম হাউজিং’ বা মিশ্র আয়ের আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।

আধুনিক ময়মনসিংহকে সত্যিকারের স্মার্ট নগরী করতে একটি সমন্বিত আরবান ডেটা সেন্টার (ইউডিসি) থাকা প্রয়োজন, যা জিআইএসভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, প্রকৌশলী, স্থপতি, চিকিৎসক ও সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘আরবান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ফোরাম’ গঠন করা যেতে পারে। বিচ্ছিন্ন প্রকল্পনির্ভরতা পরিহার করে ২০২৬-২০৫০ সালের জন্য একটি ২৫ বছর মেয়াদি রূপরেখা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এর মধ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে তথ্য সংগ্রহ, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান ও উপশহরের স্থান নির্ধারণ; ২০৩০-২০৪০ মেয়াদে মূল অবকাঠামো, আবাসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন; এবং ২০৪০-২০৫০ মেয়াদে ময়মনসিংহকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বহুকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিশ্চিত করতে হবে।

advertisement
advertisement

দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভাই, বিধানসভায় বিস্ফোরক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভাই, বিধানসভায় বিস্ফোরক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

অমৃতসরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। ২৮ জুন, ২০২৬

ফরাসি রাজধানী প্যারিস সফর সেরে ফেরার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা এবং ৫০ হাজার রুপি জরিমানা আদায়ের অভিযোগে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আম আদমি পার্টির (আপ) এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, তাঁকে অহেতুক হেনস্তা করার নেপথ্যে ছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ভাই তথা দিল্লি শুল্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আইআরএস কর্মকর্তা মণীশ কুমার। বিষয়টিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেওয়ার কৌশল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাঞ্জাব বিধানসভায় ওই দিন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্মের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে একাধিক বিধায়ক সিইসির পদত্যাগের দাবি তোলেন। তবে প্রস্তাবটি যখন গৃহীত হয়, তখন বিরোধী পক্ষ কংগ্রেস, শিরোমণি অকালি দল ও বিজেপির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন না। পাঞ্জাবে ক্ষমতায় থাকা আপ সরকারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ বিজেপির নানা বিষয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আবহেই এ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

অভিযোগের বর্ণনা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মান জানান, দিল্লি বিমানবন্দরে শুল্ক বিভাগের কর্মীরা বারবার তাঁর সামগ্রী তল্লাশির কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে তাঁকে যেতে দেওয়া হয়। তবে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুখে ওই আধিকারিকেরা আবার এসে জানান যে ওপর মহলের প্রচণ্ড চাপের কারণে একটি চালান কাটতেই হবে এবং এরপর ৫০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করা হয়। বিজেপির উদ্দেশে তোপ দেগে মান বলেন, এভাবেই তারা প্রতিশোধ নেয় এবং বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই শুল্ক কর্মকর্তা মণীশ কুমার হলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ভাই।

মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অনিল সারিন মন্তব্য করেন, মনগড়া কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দায় এড়াতে পারেন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, শুল্ক বিভাগ ঠিক কী কারণে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে, সাহস থাকলে মুখ্যমন্ত্রী সেই রসিদ প্রকাশ্যে এনে দেখান। সারিন আরও মনে করিয়ে দেন, প্রটোকল অনুসারে মুখ্যমন্ত্রীদের দেহ বা লাগেজ তল্লাশি থেকে ছাড় দেওয়া হলেও তাঁদের সঙ্গে থাকা সফরসঙ্গীরা এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন এবং তাঁদের মালামাল তল্লাশির বাইরে থাকে না।

সাধারণত ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রীদের বিদেশযাত্রায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্রের (এনওসি) প্রয়োজন হয়। পূর্বে একাধিকবার বিদেশ সফরের সুযোগ না পাওয়া মানকে এবার ফ্রান্সে যাওয়ার অনুমতিও দিতে চায়নি কেন্দ্র। পরে মুখ্যমন্ত্রী পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আদালতের নির্দেশনায় ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘এসআইএএল প্যারিস ২০২৬’ খাদ্যমেলায় অংশ নেন; সে সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী গুরপ্রীত কৌর উপস্থিত ছিলেন।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২৭ নভেম্বর লাহোরে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব পাঞ্জাবি সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাবি কবি বাবা বসির হুসেন নাজমি তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে ফ্রান্সে যেতেই যেখানে কেন্দ্র বাধা তৈরি করেছিল, সেখানে পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি কেন্দ্র কীভাবে দেবে—তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি প্রস্তাব রাখেন, কর্তারপুর করিডর খুলে দেওয়া হলে বিধানসভার সব পক্ষের সদস্যদের একসঙ্গে কর্তারপুর সাহেব যাওয়া উচিত। উল্লেখ্য, শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক দেব জীবনের শেষ ১৮ বছর যেখানে কাটিয়ে দেহত্যাগ করেছিলেন, সেই স্মৃতিবিজড়িত দরবার সাহেব গুরুদ্বারাটি পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় পাঞ্জাবের গুরদাসপুর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা পুণ্যার্থীদের জন্য ভিসামুক্ত একটি করিডর।

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আশঙ্কাজনক ২

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আশঙ্কাজনক ২

সড়ক দুর্ঘটনা

যশোর সদর উপজেলার অন্তর্গত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতের এ দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর জখম হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে; তাঁরা হলেন সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের সিয়াম হোসেন এবং জেলা শহরের শংকরপুর এলাকার আরিফুল ইসলাম। তবে অপর নিহতের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মণ্ডলগাতী এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক এবং রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান। তাঁদের সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিয়াম, ওমর ফারুক ও রাকিব একই মোটরসাইকেলে চড়ে মণ্ডলগাতী থেকে বেনাপোলের অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নতুনহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁদের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। তাঁদের মধ্যে সিয়াম প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন এবং বাকি দুজন ছিলেন বিপরীত দিক থেকে আসা যানের আরোহী।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন দুজনের শারীরিক অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন প্রথম আলোকে জানান, নিহত একজনের কাছে আরিফুল ইসলাম নামের একটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অপর নিহতের পরিচয় বের করতে ও দুর্ঘটনার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে পুলিশের কয়েকটি দল তৎপর রয়েছে।

একই ম্যাচে অর্ধশতক ও শতক: বাবার পদচিহ্ন ধরে এগোচ্ছেন রাজ্জাকপুত্র আলী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
একই ম্যাচে অর্ধশতক ও শতক: বাবার পদচিহ্ন ধরে এগোচ্ছেন রাজ্জাকপুত্র আলী

আবদুল রাজ্জাকের ছেলে আলী রাজ্জাক

বাবার মতো নিজেকে পুরোপুরি অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলেও উইলো হাতে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়ে চলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাকের ছেলে আলী রাজ্জাক। দেশটির ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট প্রেসিডেন্টস ট্রফির সর্বশেষ রাউন্ডে এক ম্যাচেই ৬৪ এবং অপরাজিত ১১১ রানের নজরকাড়া দুটি ইনিংস খেলে ক্রিকেট মহলের দৃষ্টি কেড়েছেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ ক্রিকেটার।

ঘানির হয়ে খেলা আলীর সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল অয়েল অ্যান্ড গ্যাস। দলটির বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘানি যখন মাত্র ১৪৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে গভীর সংকটে পড়ে, তখন সাতে নেমে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আলী। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তিনি আরেক অলরাউন্ডার হুসাইন তালাতের সঙ্গে যোগ করেন ১০৯ রান; তালাত তুলে নেন ১০৮ রান। এরপর সপ্তম উইকেটে হাশিবুল্লাহ খানের সঙ্গে আলীর অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে আরও ১২০ রান। শেষ পর্যন্ত ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো ১৫১ বলে ১১১ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দেন আলী। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে নিষ্পত্তি পায়।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি আলীর তৃতীয় ও চলতি আসরে দ্বিতীয় শতরান। একই ম্যাচের প্রথম ভাগে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৪ রান করেছিলেন তিনি, যার সৌজন্যে ঘানি সংগ্রহ করে ২৩২ রান। বিপরীতে ইমাম-উল-হকের দ্বিশতকে ভর দিয়ে ৯ উইকেটে ৪১০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল অয়েল অ্যান্ড গ্যাস।

এবারের প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে ১১ ইনিংসে ৫৩.৬৬ গড়ে দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরিসহ আলীর ব্যাট থেকে এসেছে মোট ৪৮৩ রান। দলের হয়ে এই মৌসুমে তিনি দ্বিতীয় শীর্ষ রানসংগ্রাহক। এর আগে মৌসুমে তাঁর প্রথম শতকটি (১০১ রান) এসেছিল টুর্নামেন্টের ফাইনালিস্ট স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের বিপক্ষে, যদিও সেই লড়াইয়ে ঘানি এক ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজয় বরণ করে।

বোলিংয়ে বাবার মতো অতটা বিধ্বংসী হতে না পারলেও পেস হাত ঘোরাতে পারেন আলী। বর্তমান মৌসুমে ৭ ইনিংসে ২৬.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ঝুলিতে পুরেছেন দুটি উইকেট। এখন পর্যন্ত ১৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩৯.৪৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৯৮৭ রান। এর আগে চলতি বছরের প্রারম্ভে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপেও হইচই ফেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার। টুর্নামেন্টে লাহোর ব্লুজের জার্সিতে মুলতান রিজিয়নের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ২৬ বলে ৪৫ রান করার পথে এক ওভারেই তুলেছিলেন ২৬ রান। এবার দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন রাজ্জাকপুত্র।