খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

এইচএসসির ফল আজ, এবার ফল দেখতে এসএমএস পাঠাতে হবে নতুন নম্বরে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এইচএসসির ফল আজ, এবার ফল দেখতে এসএমএস পাঠাতে হবে নতুন নম্বরে

এইচএসসির ফল আজ, এবার ফল দেখতে এসএমএস পাঠাতে হবে নতুন নম্বরে

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর এই কাঙ্ক্ষিত ফল ঘোষণা করা হবে। দেশজুড়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এই ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরীক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে এই ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপের পথ সুগম হতে চলেছে।

শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সহজ ও বিভিন্ন সুবিধাজনক মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফল প্রাপ্তির জন্য পরীক্ষার্থীদের মূলত তিনটি ভিন্ন উপায় অনুসরণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী ইন্টারনেট বা মুঠোফোনের মাধ্যমে খুব সহজেই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ নম্বরপত্রসহ ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানার প্রক্রিয়াটিতে এবার কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের ফল দেখতে হলে নির্দিষ্ট একটি নতুন নম্বরে খুদে বার্তা পাঠাতে হবে, যা শিক্ষা বোর্ডগুলো আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে। এই নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের এসএমএস পাঠানোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের ভুল ছাড়াই সঠিক তথ্য দিয়ে ফল জেনে নেওয়া যায়।

অনলাইন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেও শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় পোর্টাল থেকে ফল দেখতে পারবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নির্ধারিত সময়ে তাদের নিজস্ব ইমেল ও পোর্টাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে। ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই এই অনলাইন ও এসএমএস সেবাগুলো সচল থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

advertisement
advertisement

অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: অ্যান্টিবায়োটিকের নির্ধারিত কোর্স শেষ না করার স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত মারাত্মক এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পাঁচ, সাত বা দশ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু সাধারণত দুই বা তিন দিন ওষুধ খাওয়ার পর জ্বর, সর্দি কিংবা সংক্রমণের অন্যান্য উপসর্গ কমে গেলে রোগীরা মনে করেন তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। এই ধারণা থেকে অনেকে বাকি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি বড় ভুল এবং এর কারণে শরীরে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ওষুধের প্রথম ধাক্কায় শরীরের দুর্বল জীবাণুগুলো মারা গেলেও কিছু শক্তিশালী ও সহনশীল ব্যাকটেরিয়া জীবিত থেকে যায়। ডোজ সম্পূর্ণ না করার কারণে এই টিকে থাকা জীবাণুগুলো ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। বেঁচে যাওয়া এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পরবর্তীতে অতি দ্রুত রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে বংশবিস্তার করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুপারবাগ বা অপ্রতিরোধ্য হিসেবে পরিচিত। এর ফলে পরবর্তীতে একই ধরনের সংক্রমণ বা রোগ দেখা দিলে সেই নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর শরীরে আর কোনো কাজ করে না।

অসম্পূর্ণ চিকিৎসার ফলে পরবর্তীতে রোগটি আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে শরীরে ফিরে আসে এবং সাধারণ কোনো ওষুধে কাজ না হওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন চিকিৎসকদের অত্যন্ত শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং প্রচুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত রিজার্ভ ক্যাটাগরির কিংবা তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় এই শক্তিশালী ওষুধগুলোও কার্যকর হতে ব্যর্থ হয় এবং আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা এএমআরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

আইসিডিডিআরবি এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে আসা রোগীদের একটি বড় অংশে বহু-ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপসর্গ পুরোপুরি সেরে গেলেও নির্ধারিত দিন ও মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শতভাগ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির সংস্কৃতি বন্ধ করা, সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশনে এর ব্যবহার রোধ করা এবং পশুপাখির চিকিৎসায় এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

ফুলবাড়ীয়ায় ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফুলবাড়ীয়ায় ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

ফুলবাড়ীয়ায় ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে। উপজেলার মোট তেপ্পান্নটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে সাতাশটি ভবনের অবস্থাই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। জরাজীর্ণ ও বেহাল দশা হওয়ায় এর মধ্যে কয়েকটি ক্লিনিক পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ভাড়া করা ঘর কিংবা বারান্দায় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও এসব ক্লিনিকে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেশপুর বাজার, নাওগাঁও ইউনিয়ন এবং পৌরসভার লাহিড়ীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নেওয়া কক্ষে চলছে। লাহিড়ীপাড়া ক্লিনিকটির মূল ভবন দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকে ফোরকানিয়া মাদরাসার একটি ক্ষুদ্র কক্ষে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সংকীর্ণ ওই কক্ষটিতে ওষুধপত্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও সহকারীরাও বসেন। একই চিত্র মহেশপুর বাজার ও নাওগাঁও ক্লিনিকেও। বহু বছর আগে ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় বাজারের আশপাশে ঘর ভাড়া নিয়ে বা টিনের ছাপড়া তুলে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে নামমাত্র খরচে সেবা দেওয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও এই ক্লিনিকগুলোতে উল্টো রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। ঘর ভাড়া, আয়ার বেতন, বিদ্যুৎ বিল এবং প্রয়োজনীয় খাতা-কলম কেনার খরচ মেটানো হয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে। ক্লিনিকে আসা রোগীরা জানান, বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হচ্ছে। মহেশপুর ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী জানান, বাধ্য হয়ে রোগীদের কাছ থেকে সামান্য টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা আপত্তি তুললে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাও ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীয়ার মোট তেপ্পান্নটি ক্লিনিকের মধ্যে বিশটি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরও সাতটি ভবন মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জরাজীর্ণ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে, দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক ভবনের ছাদের ঢালাই নষ্ট হয়ে রড বেরিয়ে গেছে, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে ভেতরের ওষুধ ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে অনেক স্থানে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন।

হুমকির মুখে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হুমকির মুখে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা

হুমকির মুখে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা

জাতীয় ডেস্ক: দেশের সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত পার্বত্য অঞ্চলের সাজেক উপত্যকা এলাকাটি সম্প্রতি নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই জনপদের অস্থিরতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। অথচ ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। দেশের মোট ভূখণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলে তুলনামূলক কম জনসংখ্যা বসবাস করলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পেছনের পটভূমি এবং এর বিভিন্ন শর্ত নিয়ে শুরু থেকেই নানা মহলে বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে। ওই সময়ে স্থানীয় বাস্তবতার গভীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সামরিক বাহিনীর সুনির্দিষ্ট পরামর্শ উপেক্ষা করেই চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র তৎপরতা কোণঠাসা হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তাড়াহুড়ো করে এই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। এর ফলে চুক্তির বিভিন্ন ধারায় এমন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয় যা পরবর্তীতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য নানা জটিলতা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েন করা সামরিক বাহিনীর অধিকাংশ অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট গ্যারিসন রেখে বাকি ক্যাম্পগুলো গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চুক্তির বিধান অনুযায়ী কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতে বা বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে সেনা মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদগুলোর শীর্ষ পদ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত করায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ ছাড়া ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন এবং ভূমি মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে যা বহু বাঙালি পরিবারকে প্রান্তিক করে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের জন্য নতুন কোনো আইন বা বিধি প্রণয়ন করা যাবে না এমন বিধানও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ নিয়োগ ও প্রশাসনিক বদলির ক্ষমতা জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত করায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শাসনব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং আইনগত জটিলতা পার্বত্য চট্টগ্রামকে পুনরায় একটি সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ অঞ্চলের মর্যাদা এবং ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিতর্কিত ধারাগুলোর কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।