খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাপানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএর কার্যকর বাস্তবায়ন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প এবং জ্বালানি খাতের মতো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগ বি বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণেও দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কাঠামোগত সমস্যাগুলো দূর করতে না পারলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসার অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার ধরতে সুনির্দিষ্ট বিপণন কৌশল প্রণয়ন করা আবশ্যক।

বাণিজ্য ও অবকাঠামোর পাশাপাশি জাপանի শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বয়স্ক জনসংখ্যার দেশটিতে শ্রমসংকট মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ থাকলেও পূর্বের বিভিন্ন সমন্বয়হীনতার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই জাপানি ভাষার পাশাপাশি যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধ করে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অভিবাসন নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

advertisement
advertisement

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক: অনিবার্য আরেকটি বিপ্লব দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি তরুণদের দেশের স্বার্থে নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। এই সময় ১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, তারা কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামেননি, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার ও ভোগান্তি লাঘবের জন্যই এই আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে বাকি দাবিগুলো আপনাআপনি সমাধান হয়ে যেত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং দাসত্ব মেনে নিয়েছে, তারা এখন তার পরিণতি ভোগ করছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরলেও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানা বিষয়ে লুকোচুরি চলছে বলে তিনি দাবি করেন। কানেক্টিভিটির নামে দেশের স্বার্থ কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই লংমার্চের কর্মসূচি সফল করতে ভোর থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী সমবেত হন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিভিন্ন সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে শত শত গাড়ির বহর নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরু হয়। পথিমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও পয়েন্টে পথসভা শেষ করে রাতে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

জাতীয় ডেস্ক: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খননকাজ না হওয়া, মাত্রাতিরিক্ত পলি জমা এবং নির্বিচারে তীর দখলের কারণে স্থানীয় নদ-নদীগুলো মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। শিরুয়াইল ও নীলখী অঞ্চলের মরা আড়িয়াল খাঁ, পৌর এলাকার ময়নাকাটা এবং বাঁশকান্দির বিলপদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহপথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। একসময়ের খরস্রোতা এসব নদীর বিভিন্ন অংশে এখন বিশাল চর জেগে উঠেছে, কোথাও নদীর বুকে চাষাবাদ করা হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোনো গতিপথ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। নদীর এমন করুণ দশার কারণে স্থানীয় এলাকার নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ এবং সার্বিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদীগুলোর সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও ভরাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং অবিলম্বে পরিকল্পিত খননের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় কাগজে-কলমে ১৭টি নদ-নদী রয়েছে এবং এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার। পদ্মা ও পালরদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর কথা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে মাত্র দশটি নদী দৃশ্যমান রয়েছে এবং বাকিগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং বা খননকাজ না হওয়ায় জেলার অধিকাংশ নদীই তাদের স্বাভাবিক নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। শিবচরের শিরুয়াইল, নীলখী, বাঁশকান্দি, পৌর এলাকা, পাঁচ্চর ও দ্বিতীয়াখণ্ডসহ বিভিন্ন জনপদে নদীমাতৃক এই সংকট অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রবহমান নদীগুলোর অনেক অংশ এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে এবং কোনো কোনো অংশ পুরোপুরি শুকিয়ে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিরুয়াইল থেকে নীলখী পর্যন্ত প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদের একটি অংশ এখন স্থানীয়ভাবে মরা আড়িয়াল খাঁ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শিরুয়াইল এলাকার বাসিন্দা রানা হামিদ জানান, তাদের বাজারের পাশের নদীটি একসময় অনেক বড় ও প্রবহমান ছিল, কিন্তু এখন তার কোনো গতিপথই খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্ষাকালে সামান্য পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমে এই নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যায় এবং বর্তমানে নদীর বুকজুড়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো হচ্ছে। এছাড়া অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদীর তীর ও চরাঞ্চল ভরাট করে অবৈধ দখলের মহোৎসব চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিবচর পৌরসভার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী শিবচর উপশহরটি নদীর চরাংশেই গড়ে উঠেছে, যার ফলে নদীর বহু জায়গা বেদখল ও ভরাট হয়ে গেছে।

নদীগুলো রক্ষার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান জানিয়েছেন, উপজেলার নদীগুলো রক্ষার্থে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগ চলছে, তবে বিআরএস নকশা ও পর্চা অনুযায়ী নদীগুলোর প্রকৃত চিত্র পেতে কিছু জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাদত হাসান কবির বলেছেন, শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ময়নাকাটা নদীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান না করলে আগামী দিনে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: অ্যান্টিবায়োটিকের নির্ধারিত কোর্স শেষ না করার স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত মারাত্মক এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পাঁচ, সাত বা দশ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু সাধারণত দুই বা তিন দিন ওষুধ খাওয়ার পর জ্বর, সর্দি কিংবা সংক্রমণের অন্যান্য উপসর্গ কমে গেলে রোগীরা মনে করেন তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। এই ধারণা থেকে অনেকে বাকি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি বড় ভুল এবং এর কারণে শরীরে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ওষুধের প্রথম ধাক্কায় শরীরের দুর্বল জীবাণুগুলো মারা গেলেও কিছু শক্তিশালী ও সহনশীল ব্যাকটেরিয়া জীবিত থেকে যায়। ডোজ সম্পূর্ণ না করার কারণে এই টিকে থাকা জীবাণুগুলো ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। বেঁচে যাওয়া এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পরবর্তীতে অতি দ্রুত রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে বংশবিস্তার করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুপারবাগ বা অপ্রতিরোধ্য হিসেবে পরিচিত। এর ফলে পরবর্তীতে একই ধরনের সংক্রমণ বা রোগ দেখা দিলে সেই নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর শরীরে আর কোনো কাজ করে না।

অসম্পূর্ণ চিকিৎসার ফলে পরবর্তীতে রোগটি আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে শরীরে ফিরে আসে এবং সাধারণ কোনো ওষুধে কাজ না হওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন চিকিৎসকদের অত্যন্ত শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং প্রচুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত রিজার্ভ ক্যাটাগরির কিংবা তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় এই শক্তিশালী ওষুধগুলোও কার্যকর হতে ব্যর্থ হয় এবং আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা এএমআরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

আইসিডিডিআরবি এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে আসা রোগীদের একটি বড় অংশে বহু-ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপসর্গ পুরোপুরি সেরে গেলেও নির্ধারিত দিন ও মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শতভাগ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির সংস্কৃতি বন্ধ করা, সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশনে এর ব্যবহার রোধ করা এবং পশুপাখির চিকিৎসায় এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।