খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ সুগম হয়েছে। বহু বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক শুধু পদমর্যাদা থেকেই বঞ্চিত হননি, বরং এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক সুবিধা থেকেও দূরে ছিলেন। আদালতের রায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখন শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। তবে আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে শিক্ষকদের মনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রথমে জেলাভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে কোনো যোগ্য শিক্ষক যাতে ভুল তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে।

শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। তৎকালীন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনায় বলা হয় যে ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার পাবেন এবং জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির অর্ধেক সময় কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে ছিল।

এদিকে আইনি বাধা দূর হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফাইল চালাচালির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁরা দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পেছনে সময় নষ্ট হওয়ার পর এখন আর কোনোভাবেই কালক্ষেপণ কাম্য নয়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। ৩৬ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হলে বিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট খালি পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

advertisement
advertisement

সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

রাজনীতি ডেস্ক: গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়া অভিমুখে একটি দীর্ঘ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে জোটটি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ বহর যাত্রা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পথসভা ও অনির্ধারিত সভা শেষে কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বৃহৎ সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্বোধনী ও সমাপনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখছেন। প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর এবং চারশ কিলোমিটারের বেশি সড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে দুটি সফল লংমার্চ সম্পন্ন করে এই জোট। দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ ও ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই লংমার্চগুলো থেকে জনমত গঠনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে আঞ্চলিক দাবি হিসেবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন ইস্যুও এই দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। লংমার্চ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঢাকা ও খুলনা মহানগর ছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের প্রায় ১৯ জেলার নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ এবং মিছিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক সাক্ষাৎকারে জানান, সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং লংমার্চের মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে গিয়ে এই দাবিগুলোর পক্ষে জনমত তৈরি করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা অবিলম্বে সরকারকে উৎখাত করতে চান না, বরং এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর যৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে চান। এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন যে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা এতদিন সহনশীল ভূমিকা পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। তাই দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

লংমার্চের সময় সাধারণ মানুষের যাতে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়, সেজন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সর্বসাধারণের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া লংমার্চে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষা, চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উপ-কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আগামী একুশে নভেম্বর সিলেট অভিমুখে পরবর্তী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর ঢাকামুখী আরও কর্মসূচি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক: অনিবার্য আরেকটি বিপ্লব দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি তরুণদের দেশের স্বার্থে নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। এই সময় ১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, তারা কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামেননি, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার ও ভোগান্তি লাঘবের জন্যই এই আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে বাকি দাবিগুলো আপনাআপনি সমাধান হয়ে যেত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং দাসত্ব মেনে নিয়েছে, তারা এখন তার পরিণতি ভোগ করছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরলেও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানা বিষয়ে লুকোচুরি চলছে বলে তিনি দাবি করেন। কানেক্টিভিটির নামে দেশের স্বার্থ কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই লংমার্চের কর্মসূচি সফল করতে ভোর থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী সমবেত হন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিভিন্ন সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে শত শত গাড়ির বহর নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরু হয়। পথিমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও পয়েন্টে পথসভা শেষ করে রাতে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

জাতীয় ডেস্ক: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খননকাজ না হওয়া, মাত্রাতিরিক্ত পলি জমা এবং নির্বিচারে তীর দখলের কারণে স্থানীয় নদ-নদীগুলো মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। শিরুয়াইল ও নীলখী অঞ্চলের মরা আড়িয়াল খাঁ, পৌর এলাকার ময়নাকাটা এবং বাঁশকান্দির বিলপদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহপথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। একসময়ের খরস্রোতা এসব নদীর বিভিন্ন অংশে এখন বিশাল চর জেগে উঠেছে, কোথাও নদীর বুকে চাষাবাদ করা হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোনো গতিপথ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। নদীর এমন করুণ দশার কারণে স্থানীয় এলাকার নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ এবং সার্বিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদীগুলোর সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও ভরাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং অবিলম্বে পরিকল্পিত খননের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় কাগজে-কলমে ১৭টি নদ-নদী রয়েছে এবং এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার। পদ্মা ও পালরদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর কথা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে মাত্র দশটি নদী দৃশ্যমান রয়েছে এবং বাকিগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং বা খননকাজ না হওয়ায় জেলার অধিকাংশ নদীই তাদের স্বাভাবিক নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। শিবচরের শিরুয়াইল, নীলখী, বাঁশকান্দি, পৌর এলাকা, পাঁচ্চর ও দ্বিতীয়াখণ্ডসহ বিভিন্ন জনপদে নদীমাতৃক এই সংকট অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রবহমান নদীগুলোর অনেক অংশ এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে এবং কোনো কোনো অংশ পুরোপুরি শুকিয়ে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিরুয়াইল থেকে নীলখী পর্যন্ত প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদের একটি অংশ এখন স্থানীয়ভাবে মরা আড়িয়াল খাঁ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শিরুয়াইল এলাকার বাসিন্দা রানা হামিদ জানান, তাদের বাজারের পাশের নদীটি একসময় অনেক বড় ও প্রবহমান ছিল, কিন্তু এখন তার কোনো গতিপথই খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্ষাকালে সামান্য পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমে এই নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যায় এবং বর্তমানে নদীর বুকজুড়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো হচ্ছে। এছাড়া অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদীর তীর ও চরাঞ্চল ভরাট করে অবৈধ দখলের মহোৎসব চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিবচর পৌরসভার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী শিবচর উপশহরটি নদীর চরাংশেই গড়ে উঠেছে, যার ফলে নদীর বহু জায়গা বেদখল ও ভরাট হয়ে গেছে।

নদীগুলো রক্ষার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান জানিয়েছেন, উপজেলার নদীগুলো রক্ষার্থে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগ চলছে, তবে বিআরএস নকশা ও পর্চা অনুযায়ী নদীগুলোর প্রকৃত চিত্র পেতে কিছু জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাদত হাসান কবির বলেছেন, শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ময়নাকাটা নদীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান না করলে আগামী দিনে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।