খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্বের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়া সংলাপে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বাড়তি সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং এই সুযোগের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে হলে আগামী তিন বছর দেশের নীতিনির্ধাতকদের ব্যতিক্রমী সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এখন এই প্রস্তুতি পর্বের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয় বা আমলাতন্ত্রের রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একসাথে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত করা।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাত, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরবরাহব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সংস্কার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। অতীতের ধারাবাহিকতা ভেঙে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের বাস্তব রূপায়ণই এই মুহূর্তে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করে সিপিডি।

সংস্কার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত এজেন্ডায় বিষয়টি রাখা, সংসদীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য একটি সর্বজনীন ড্যাশবোর্ড চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, সংসদ সদস্য, বেসরকারি খাত এবং গণমাধ্যমকে এক সাথে যুক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক রূপরেখা তৈরি না করলে এই বাড়তি সময়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, কেবল পুরোনো বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখার পেছনে সময় না দিয়ে বরং উত্তরণ-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মানদণ্ড যেমন কার্বন কর, শ্রম অধিকার ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। এছাড়া নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, এলডিসি উত্তরণের মূল লক্ষ্য কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার সুফল দেশের সাধারণ মানুষও ভোগ করতে পারবে।

advertisement
advertisement

ব্যাংক ‘লুট করে’ আটলান্টিকের ওপারে আবদুল হাই, বললেন ‘আমি বলির পাঁঠা’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্যাংক ‘লুট করে’ আটলান্টিকের ওপারে আবদুল হাই, বললেন ‘আমি বলির পাঁঠা’

ব্যাংক ‘লুট করে’ আটলান্টিকের ওপারে আবদুল হাই, বললেন ‘আমি বলির পাঁঠা’

অর্থনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আলোচিত এক ব্যাংক কর্মকর্তার দেশত্যাগ ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিগত সরকারের পতনের বহু আগেই ২০২৩ সালের কোনো এক সময়ে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করে আটলান্টিক মহাসাগরের অপর পারে চলে যান। পরবর্তীতে গত বছরের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার এই দেশত্যাগের বিষয়টি জনসমক্ষে আরও জোরালোভাবে আলোচিত হতে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং পুরো পরিস্থিতির জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল হাই দাবি করেন যে, তিনি কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে একটি বড় চক্রের বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তার মতে, একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তাকে সমস্ত অন্যায়ের দায়ভার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত বিভিন্ন জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ঘটনার পর অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই তালিকায় আবদুল হাইয়ের নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে।

শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’

শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের নাট্যাঙ্গনে নতুন কাজের অংশ হিসেবে মঞ্চে আসছে নাট্যদল শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক পালিয়ে বেড়ায়। খ্যাতিমান নাট্যকার মনোজ মিত্রের রচনায় এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন হামিদুর রহমান পাপ্পু। এটি এই নাট্যদলের দ্বাদশ প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এই নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

মনোজ মিত্রের এই নাটকটিতে মূলত মানুষের মনস্তত্ত্ব, পলায়নপর মানসিকতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নাটকের মূল চরিত্র রূপচাঁদ একজন ভবঘুরে ও শিকড়ছেঁড়া মানুষ, যাকে সমাজ ও সংসার অপদার্থ হিসেবে দেখে। জীবনের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছা তার মধ্যে নেই। দায়িত্ব এবং জটিল সংকটের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে সে বারবার জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ানোর পথ বেছে নেয়।

রূপচাঁদের এই পলায়ন কেবল স্থান পরিবর্তন নয়, বরং তার ভেতরের ভয়, অসহায়ত্ব ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা প্রকাশ করে। জীবনের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনসংগ্রাম, স্বার্থপরতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন উন্মোচিত হয়। নির্দেশক হামিদুর রহমান পাপ্পু জানিয়েছেন যে এই নাটকে প্রান্তিক মানুষের জীবন এবং সমাজের অসংগতি গভীর জীবনদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

নাটকটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপু মাহমুদ, জাবেদ হামিদ, জয়া আহমেদ, রায়হান হোসেন, রাশিদুল হাসান লিটনসহ আরও অনেকে। এর মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ণ। এছাড়া পোশাক ও রূপসজ্জা পরিকল্পনা করেছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময় এবং সংগীত পরিচালনা ও কোরিওগ্রাফি করেছেন মো. আলমগীর।

বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫

বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫

শিক্ষা ডেস্ক: অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফল অর্জন করেছেন মো. আরাফাত। এলাকার মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন দিনমজুর হিসেবেই পরিচিত ছিলেন, যিনি পেটের টানে কায়িক পরিশ্রম করতেন। তবে সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এবার পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন, যা স্থানীয়বাসীর মধ্যে দারুণ আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের বড় ছেলেকে হারাতে হয়েছে অনেক আগেই। জীবিকার তাগিদে এবং সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। প্রতিদিনের শারীরিক পরিশ্রান্তির পরও বইয়ের সঙ্গে তার গভীর মিতালি ছিল অটুট। একটু সুযোগ পেলেই তিনি পড়াশোনায় মন দিতেন, যা তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আরাফাতের এই সাফল্যে তার পরিবার ও শিক্ষকরা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা জানান, নানা ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে আরাফাত যে ধৈর্য ও মেধার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আশপাশের বহু তরুণের জন্য একটি দারুণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উচ্চশিক্ষার পথচলা বেশ দীর্ঘ এবং কণ্টকাকীর্ণ হলেও আরাফাত নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াতে চান না। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষ পাশে দাঁড়ালে তিনি তার উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। অদম্য এই তরুণ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে অভাবের বেড়াজাল ভেঙেও সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।