জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও সামগ্রিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, নানা জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং দেশের চলমান উন্নয়ন যাত্রায় তরুণ প্রজন্মের অবদান সবসময়ই অনস্বীকার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই কথা বলেন এবং দেশের সব তরুণ-তরুণীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
বাণীতে সরকারপ্রধান স্মরণ করেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবসমাজের বিপুল সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সঠিক পথে সংগঠিত করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরই নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে প্রথম যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে রূপ নেয়। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে সব জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সময়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রায় ৮০ লাখ তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ প্রশিক্ষণার্থী আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন এবং অনেকেই এখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয় করছেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করেছে যার মাধ্যমে তরুণরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো সম্ভাবনাময় খাতে নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকার ইতিমধ্যে পাঁচশ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্যের সাথে মিল রেখে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজ আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।