খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

পবিপ্রবিতে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কর্মকর্তা থেকে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের প্রক্রিয়া, ইউজিসির নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পবিপ্রবিতে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কর্মকর্তা থেকে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের প্রক্রিয়া, ইউজিসির নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠদানের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) তিন কর্মকর্তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালার শর্তাবলি মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিজস্ব নিয়োগবিধি মেনেই এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ এবং ২৫ অক্টোবর কৃষিতত্ত্ব ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদের নিয়োগ বাছাই বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আবেদনকারী তিন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ এবং অপরজন বর্তমান রেজিস্ট্রারের স্ত্রী বলে জানা গেছে। ২০২১ সালে প্রণীত ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপক পদে সরাসরি নিয়োগ পেতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫ থাকতে হয়। পাশাপাশি পিএইচডিধারীদের ক্ষেত্রে অন্তত এক বছর এবং এমফিল ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে দুই ও তিন বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া স্বীকৃত জার্নালে ন্যূনতম তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশের শর্ত রয়েছে, যার অন্তত একটিতে প্রার্থীকে প্রথম লেখক হতে হবে। তবে পবিপ্রবির গত ২২ জুন ও ১৬ আগস্ট প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সিজিপিএ চাওয়া হয়েছে ৩ এবং পিএইচডিধারীদের জন্য শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত বাদ দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব বিধিতে প্রকাশনায় প্রথম লেখক হওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পছন্দের কর্মকর্তাদের সুযোগ করে দিতেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রার্থীদের মধ্যে জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক রাহাত মাহ্‌মুদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগে আবেদন করেছেন। ২০০৭ সালে সহকারী খামার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দিয়ে বর্তমানে উপ-খামার তত্ত্বাবধায়ক পদে থাকা এই কর্মকর্তার স্নাতকে সিজিপিএ ৩.২৭ (যা ইউজিসির নীতিমালার চেয়ে কম) এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর নেই। অন্যদিকে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রার্থী ডেপুটি রেজিস্ট্রার জিনাত নাসরিন সুলতানা বর্তমান রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল হোসেনের স্ত্রী। এছাড়া মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে প্রার্থী হয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হাচিব মোহাম্মদ তুষার, যাঁর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেই। ২০০৭ সালে সেকশন অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়া এই তিন কর্মকর্তার কারও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নেই। রাহাত ও জিনাত বাছাই বোর্ডের কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তুষার জানান তিনি এখনো কার্ড পাননি।

বিভাগীয় প্রধানদের মধ্যে কৃষিতত্ত্বের চেয়ারম্যান গোপাল সাহা ইউজিসির বিধান অনুসরণের তাগিদ দিলেও উদ্ভিদ রোগতত্ত্বের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মাহমুদের মতে, পিএইচডি থাকলে যে কাউকেই সহকারী অধ্যাপক করা যায়। তবে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন নিয়োগবিধির খুঁটিনাটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক হেমায়েত জাহান বলেন, ইউজিসির ইউনিফাইড রুল সব বিশ্ববিদ্যালয় এখনো গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতে পবিপ্রবিও হয়তো তা গ্রহণ করবে। সহ–উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম জানান, প্রার্থীরা কর্মকর্তা হিসেবে নয়, পিএইচডিধারী হিসেবে বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী আবেদন করে কার্ড পেয়েছেন। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল হোসেন ৮ অক্টোবর দাবি করেন, নিজস্ব বিধিমালায় পিএইচডি ও প্রকাশনা থাকলে নিয়োগে বাধা নেই এবং তিনি বাছাই বোর্ডের সদস্য নন।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ৮ অক্টোবর স্পষ্ট জানান, কর্মকর্তা থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই এবং বিষয়টি কমিশনের নজরে এলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ থেকেও নীতিমালা লঙ্ঘনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইউজিসির সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, সহকারী অধ্যাপক হতে পাঠদানের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউজিসির কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

advertisement
advertisement

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত হলো

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত হলো

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত হলো

অর্থনীতি ডেস্ক: স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য পুনরায় সমন্বয় করা হয়েছে। দেশের বাজারে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস সোনার দাম বাড়ানোর এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনা ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়, যা দেশের সকল বাজারে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জুয়েলারি সামগ্রী ক্রয়ের জন্য আগের তুলনায় কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বাড়িয়ে দুই লাখ চব্বিশ হাজার ছয়শত বত্রিশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে দুই লাখ চৌদ্দ হাজার ছয়শত সাতাত্তর টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের এক লাখ চুরাশি হাজার চারশত একাত্তর টাকা খরচ করতে হবে এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার পাঁচশত ষোল টাকা।

সোনার পাশাপাশি রুপার বাজারেও দামের পরিবর্তন এনেছে বাজুস কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুপার নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার আটশত ঊনচল্লিশ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি তিন হাজার ছয়শত চুয়াত্তর টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা তিন হাজার একশত উনপঞ্চাশ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা দুই হাজার তিনশত একানব্বই টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গহনার নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যুক্ত থাকবে। পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দেশের সকল স্বর্ণের দোকানে এই নির্ধারিত মূল্য তালিকা বলবৎ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কমিটি জানিয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে চলছে ভোট গ্রহণ: কর্মকর্তাদের কার্ডে ছবি না থাকায় উদ্বিগ্ন দেলাওয়ার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে চলছে ভোট গ্রহণ: কর্মকর্তাদের কার্ডে ছবি না থাকায় উদ্বিগ্ন দেলাওয়ার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে চলছে ভোট গ্রহণ: কর্মকর্তাদের কার্ডে ছবি না থাকায় উদ্বিগ্ন দেলাওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সকাল আটটা থেকে ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে চলা এই ভোটগ্রহণ বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন এবং মোট ৯৮৯টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন তারা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় ২১ প্লাটুন বিজিবি, দুই হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য এবং দুই হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া যেকোনো অনিয়ম রোধ ও নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করতে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ মোট ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন।

ভোটগ্রহণের শুরুতে নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন এবং নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, ১১-দলীয় ঐক্য-সমর্থিত জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট শঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভোট প্রদান শেষে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে কোনো ছবি নেই। ছবিবিহীন পরিচয়পত্র থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আসল নাকি অন্য কেউ প্রক্সি দিচ্ছেন তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া কিছু কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান তিনি এবং দ্রুত এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত: এস এম জিলানী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত: এস এম জিলানী

বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত: এস এম জিলানী

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ও নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসেছে। সম্প্রতি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌরঙ্গী মোড়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থেকে দলটির পক্ষ থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ আচরণের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর দ্বিমুখী রাজনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে জিলানী বলেন, একাত্তরের পরাজিত এই রাজনৈতিক শক্তিটি সংসদ ভবনের ভেতরে এক ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকে আর বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান নেয়। উদাহরণস্বরূপ তিনি জানান, সংসদের ভেতরে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটকে বিএনপি সরকারের সৃষ্টি নয় বলে স্বীকার করলেও, সংসদের বাইরে এসে ঠিক একই সংকটের অজুহাতে বর্তমান সরকারের পতনের দাবি তুলে লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করছেন। এই ধরনের রাজনৈতিক অসততা ও ভণ্ডামি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগের ফলেই আজ দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই তাদের ব্যর্থ প্রমাণের জন্য তাড়াহুড়ো না করে যৌক্তিক সময় দেওয়া উচিত। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো অযৌক্তিক আন্দোলনের চেয়ে বরং দেশ গঠনের এই সময়ে সব রাজনৈতিক দলের ইতিবাচক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত নীতি ও দুর্নীতিকে প্রধানত দায়ী করেন এস এম জিলানী। তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থেকেও পূর্ববর্তী সরকার কেবল আমদানিনির্ভর গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বজায় রেখেছিল এবং দেশের নিজস্ব বঙ্গোপসাগরের গ্যাসকূপ থেকে জ্বালানি উত্তোলনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপের মধ্যে ৩০টির খনন ও উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে এবং অবশিষ্ট ১২০টির কাজও খুব দ্রুত শুরু করা হবে বলে তিনি সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। সমাবেশে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার খায়ের, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন, সহসভাপতি জিল্লাল শেখ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকারসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।