খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত: এস এম জিলানী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত: এস এম জিলানী

বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত: এস এম জিলানী

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ও নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসেছে। সম্প্রতি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌরঙ্গী মোড়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থেকে দলটির পক্ষ থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ আচরণের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর দ্বিমুখী রাজনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে জিলানী বলেন, একাত্তরের পরাজিত এই রাজনৈতিক শক্তিটি সংসদ ভবনের ভেতরে এক ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকে আর বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান নেয়। উদাহরণস্বরূপ তিনি জানান, সংসদের ভেতরে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটকে বিএনপি সরকারের সৃষ্টি নয় বলে স্বীকার করলেও, সংসদের বাইরে এসে ঠিক একই সংকটের অজুহাতে বর্তমান সরকারের পতনের দাবি তুলে লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করছেন। এই ধরনের রাজনৈতিক অসততা ও ভণ্ডামি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগের ফলেই আজ দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই তাদের ব্যর্থ প্রমাণের জন্য তাড়াহুড়ো না করে যৌক্তিক সময় দেওয়া উচিত। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো অযৌক্তিক আন্দোলনের চেয়ে বরং দেশ গঠনের এই সময়ে সব রাজনৈতিক দলের ইতিবাচক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত নীতি ও দুর্নীতিকে প্রধানত দায়ী করেন এস এম জিলানী। তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থেকেও পূর্ববর্তী সরকার কেবল আমদানিনির্ভর গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বজায় রেখেছিল এবং দেশের নিজস্ব বঙ্গোপসাগরের গ্যাসকূপ থেকে জ্বালানি উত্তোলনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপের মধ্যে ৩০টির খনন ও উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে এবং অবশিষ্ট ১২০টির কাজও খুব দ্রুত শুরু করা হবে বলে তিনি সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। সমাবেশে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার খায়ের, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন, সহসভাপতি জিল্লাল শেখ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকারসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
advertisement

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলি ধারণ করে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ২৯ অক্টোবর রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ছয় মাসমেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নবীন কর্মকর্তাদের এই মিলনমেলায় পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনীর প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং সেবাপ্রত্যাশী প্রতিটি নাগরিককে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করতে হবে। সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রলোভন ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে জনমানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয় জয় করার মাধ্যমেই কেবল সত্যিকার অর্থে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম বলেও জানান তিনি।

অতীতের বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ এবং মানবিক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান যে, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন ক্রয়, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সরবরাহের মতো বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা ও নানা আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করা নবীন কর্মকর্তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কোনো ধরনের বৈষম্য ও অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বর্তমান সময়ের অপরাধ জগতের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, প্রথাগত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই জটিল অপরাধসমূহ সফলভাবে দমন করতে হলে কেবল গতানুগতিক অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের সাহায্য নিতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পেশিশক্তি বা পক্ষপাতিত্বের পথ পরিহার করে শতভাগ পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকারী এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সম্মাননা পদক ও পুরস্কার তুলে দেন। ২৭তম সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচ মিলিয়ে মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মজীবন শুরু করলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পুলিশ সদস্যদের কাজের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। পরিশেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের দেশের নিরাপত্তায় একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন যে বর্তমান সরকার দেশের প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে। রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২৭তম সার্জেন্ট এবং ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। তিনি পুলিশ সদস্যদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে অপরাধীর মনে ভীতি এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিধান করাই তাদের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। বর্তমান যুগে অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ায় ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে নবীন কর্মকর্তাদের কারিগরি জ্ঞান অর্জন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় তিনি সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশজুড়ে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।

পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে একটি স্বাধীন পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে ব্রিটিশ আমলের পুরোনো পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়ের চাহিদা মেটাতে আধুনিক ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড এবং পারস্পরিক সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল শক্তি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন যে মাদক কেবল ব্যক্তিজীবনই ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শন করা যাবে না। অনুষ্ঠানে মোট ২৪৬ জন নবীন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যাঁদের মধ্যে অতীতে চাকরিচ্যুত হওয়া কিছু কর্মকর্তাও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসিত হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

আইন-আদালত ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত তিনজন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকারী এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ওএসডি হওয়া তিন সরকারি কর্মকর্তা হলেন জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিবিড় অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে কোটাসংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসার পর চলতি বছরের শুরুর দিকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকার কারণেই মূলত প্রশাসন তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার সময় অভিযুক্ত এই কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কোনো আবেদনই করেননি। অথচ পরবর্তীতে তাদের সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত কোটায় ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। মূল ফলাফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নথিপত্রে জালিয়াতি করে তাদের প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন নজিরবিহীন অনিয়ম জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

এদিকে অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন করে আসলেও বাকি তিনজন অন্য ক্যাডারেই বহাল রয়েছেন। তবে বাকিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অতীতে বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষায় কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে অকৃতকার্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করার মতো গুরুতর অভিযোগ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও উঠেছিল। এই ঘটনাটি সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।