খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে পিস্তলের ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে ভিডিওর কিছু অংশে আগ্নেয়াস্ত্রের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়

পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজপথের সংগ্রাম ও মেয়র নির্বাচনের দৌড় দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অবস্থান তৈরি করেছিলেন ইশরাক হোসেন। প্রথম দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর আসন পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত আট মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা ছাড়তে হচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদকে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে চালানো সেই অভিযানের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপরই আজ সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইশরাক জানান যে তিনি দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের মাধ্যমে ১৮ বছর পর ক্ষমতায় ফেরে বিএনপি। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার বা বাহাদুরি প্রদর্শনের বিপরীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংযত আচরণের বিষয়ে জনমনে গভীর প্রত্যাশা তৈরি হয়। সরকারের এই মেয়াদে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে গত মাসেই মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জেরে দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ইশরাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ পেল, যা ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করেই রাজনীতিতে পা রাখেন তাঁর ছেলে ইশরাক। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর বাবার প্রয়াণের পর তিনি পুরান ঢাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিদেশে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই ব্যবসায়ী ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হন এবং ঢাকা দক্ষিণের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

এর আগেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে হারের পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন গেজেট জারি করে। কিন্তু তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শপথ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মেয়রের দায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর সমর্থকেরা নগর ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করলে নাগরিক সেবা মারাত্মক বিঘ্নিত হয়। সে সময় ইশরাক নিজেও সেখানে গিয়ে নিজ উদ্যোগে শপথ নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসার হুমকি দেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও ভোটাধিকার রক্ষার যুক্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়রের দায়িত্ব পাননি, উল্টো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অপরিণামদর্শিতার কারণে দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচিত হন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি ছিলেন। সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আপত্তি তুলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বদলে ক্ষুব্ধ হয়ে ইশরাক বলেন, ‘আপনারা কি নিজেদের জাহির করার জন্য এসেছেন? ডকুমেন্টারি দেখানোর জন্য এসেছেন? কী করছেন আপনারা? শহীদদের জন্য কী করেছেন? শহীদদের জন্য আপনারা কিছুই করেননি।’ এতে হট্টগোল বাড়লে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেন সবাইকে শান্ত করেন। এছাড়া গত জুলাইয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিন বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি ইশরাকও সামরিক কায়দায় স্যালুট দিয়ে ট্রলের শিকার হন। তখন ফেসবুকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি লিখেছিলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা উঠলে শ্রদ্ধায় আমার হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্যালুটে উঠে যায়। আমার হাত দিয়ে আমি বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট দিয়েছি। হাত আমার, সম্মান জানিয়েছি সর্বজনশ্রদ্ধেয় বীরদের। দেশ আমার গণতান্ত্রিক; আমার ইচ্ছায় আমি স্যালুট দিয়েছি। যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাব।’

বিশ্লেষকদের মতে, গেন্ডারিয়ার মাদকবিরোধী অভিযানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো আচরণ এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের অতিরিক্ত প্রবণতাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘ইশরাকের কর্মকাণ্ড ছিল ক্ষমতার প্রদর্শন, অপরিপক্বতা, হামবড়া ভাবের একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। তাঁর পরিণতিবোধের অভাবের কারণে সরকারের বদনাম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা অন্যদের জন্য একটা কড়া বার্তা।’ তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকলেও মন্ত্রিত্ব হারানোর এই ঘটনা দলীয় পরিচয় বা পারিবারিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের জবাবদিহিতার নীতিকেই তুলে ধরছে। একই সাথে গেন্ডারিয়ার ওই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও সার্বিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহলে।

advertisement
advertisement

দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভাই, বিধানসভায় বিস্ফোরক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভাই, বিধানসভায় বিস্ফোরক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

অমৃতসরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। ২৮ জুন, ২০২৬

ফরাসি রাজধানী প্যারিস সফর সেরে ফেরার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা এবং ৫০ হাজার রুপি জরিমানা আদায়ের অভিযোগে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আম আদমি পার্টির (আপ) এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, তাঁকে অহেতুক হেনস্তা করার নেপথ্যে ছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ভাই তথা দিল্লি শুল্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আইআরএস কর্মকর্তা মণীশ কুমার। বিষয়টিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেওয়ার কৌশল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাঞ্জাব বিধানসভায় ওই দিন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্মের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে একাধিক বিধায়ক সিইসির পদত্যাগের দাবি তোলেন। তবে প্রস্তাবটি যখন গৃহীত হয়, তখন বিরোধী পক্ষ কংগ্রেস, শিরোমণি অকালি দল ও বিজেপির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন না। পাঞ্জাবে ক্ষমতায় থাকা আপ সরকারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ বিজেপির নানা বিষয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আবহেই এ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

অভিযোগের বর্ণনা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মান জানান, দিল্লি বিমানবন্দরে শুল্ক বিভাগের কর্মীরা বারবার তাঁর সামগ্রী তল্লাশির কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে তাঁকে যেতে দেওয়া হয়। তবে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুখে ওই আধিকারিকেরা আবার এসে জানান যে ওপর মহলের প্রচণ্ড চাপের কারণে একটি চালান কাটতেই হবে এবং এরপর ৫০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করা হয়। বিজেপির উদ্দেশে তোপ দেগে মান বলেন, এভাবেই তারা প্রতিশোধ নেয় এবং বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই শুল্ক কর্মকর্তা মণীশ কুমার হলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ভাই।

মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অনিল সারিন মন্তব্য করেন, মনগড়া কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দায় এড়াতে পারেন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, শুল্ক বিভাগ ঠিক কী কারণে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে, সাহস থাকলে মুখ্যমন্ত্রী সেই রসিদ প্রকাশ্যে এনে দেখান। সারিন আরও মনে করিয়ে দেন, প্রটোকল অনুসারে মুখ্যমন্ত্রীদের দেহ বা লাগেজ তল্লাশি থেকে ছাড় দেওয়া হলেও তাঁদের সঙ্গে থাকা সফরসঙ্গীরা এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন এবং তাঁদের মালামাল তল্লাশির বাইরে থাকে না।

সাধারণত ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রীদের বিদেশযাত্রায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্রের (এনওসি) প্রয়োজন হয়। পূর্বে একাধিকবার বিদেশ সফরের সুযোগ না পাওয়া মানকে এবার ফ্রান্সে যাওয়ার অনুমতিও দিতে চায়নি কেন্দ্র। পরে মুখ্যমন্ত্রী পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আদালতের নির্দেশনায় ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘এসআইএএল প্যারিস ২০২৬’ খাদ্যমেলায় অংশ নেন; সে সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী গুরপ্রীত কৌর উপস্থিত ছিলেন।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২৭ নভেম্বর লাহোরে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব পাঞ্জাবি সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাবি কবি বাবা বসির হুসেন নাজমি তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে ফ্রান্সে যেতেই যেখানে কেন্দ্র বাধা তৈরি করেছিল, সেখানে পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি কেন্দ্র কীভাবে দেবে—তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি প্রস্তাব রাখেন, কর্তারপুর করিডর খুলে দেওয়া হলে বিধানসভার সব পক্ষের সদস্যদের একসঙ্গে কর্তারপুর সাহেব যাওয়া উচিত। উল্লেখ্য, শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক দেব জীবনের শেষ ১৮ বছর যেখানে কাটিয়ে দেহত্যাগ করেছিলেন, সেই স্মৃতিবিজড়িত দরবার সাহেব গুরুদ্বারাটি পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় পাঞ্জাবের গুরদাসপুর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা পুণ্যার্থীদের জন্য ভিসামুক্ত একটি করিডর।

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আশঙ্কাজনক ২

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আশঙ্কাজনক ২

সড়ক দুর্ঘটনা

যশোর সদর উপজেলার অন্তর্গত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতের এ দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর জখম হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে; তাঁরা হলেন সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের সিয়াম হোসেন এবং জেলা শহরের শংকরপুর এলাকার আরিফুল ইসলাম। তবে অপর নিহতের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মণ্ডলগাতী এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক এবং রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান। তাঁদের সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিয়াম, ওমর ফারুক ও রাকিব একই মোটরসাইকেলে চড়ে মণ্ডলগাতী থেকে বেনাপোলের অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নতুনহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁদের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। তাঁদের মধ্যে সিয়াম প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন এবং বাকি দুজন ছিলেন বিপরীত দিক থেকে আসা যানের আরোহী।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন দুজনের শারীরিক অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন প্রথম আলোকে জানান, নিহত একজনের কাছে আরিফুল ইসলাম নামের একটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অপর নিহতের পরিচয় বের করতে ও দুর্ঘটনার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে পুলিশের কয়েকটি দল তৎপর রয়েছে।

একই ম্যাচে অর্ধশতক ও শতক: বাবার পদচিহ্ন ধরে এগোচ্ছেন রাজ্জাকপুত্র আলী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
একই ম্যাচে অর্ধশতক ও শতক: বাবার পদচিহ্ন ধরে এগোচ্ছেন রাজ্জাকপুত্র আলী

আবদুল রাজ্জাকের ছেলে আলী রাজ্জাক

বাবার মতো নিজেকে পুরোপুরি অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলেও উইলো হাতে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়ে চলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাকের ছেলে আলী রাজ্জাক। দেশটির ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট প্রেসিডেন্টস ট্রফির সর্বশেষ রাউন্ডে এক ম্যাচেই ৬৪ এবং অপরাজিত ১১১ রানের নজরকাড়া দুটি ইনিংস খেলে ক্রিকেট মহলের দৃষ্টি কেড়েছেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ ক্রিকেটার।

ঘানির হয়ে খেলা আলীর সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল অয়েল অ্যান্ড গ্যাস। দলটির বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘানি যখন মাত্র ১৪৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে গভীর সংকটে পড়ে, তখন সাতে নেমে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আলী। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তিনি আরেক অলরাউন্ডার হুসাইন তালাতের সঙ্গে যোগ করেন ১০৯ রান; তালাত তুলে নেন ১০৮ রান। এরপর সপ্তম উইকেটে হাশিবুল্লাহ খানের সঙ্গে আলীর অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে আরও ১২০ রান। শেষ পর্যন্ত ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো ১৫১ বলে ১১১ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দেন আলী। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে নিষ্পত্তি পায়।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি আলীর তৃতীয় ও চলতি আসরে দ্বিতীয় শতরান। একই ম্যাচের প্রথম ভাগে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৪ রান করেছিলেন তিনি, যার সৌজন্যে ঘানি সংগ্রহ করে ২৩২ রান। বিপরীতে ইমাম-উল-হকের দ্বিশতকে ভর দিয়ে ৯ উইকেটে ৪১০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল অয়েল অ্যান্ড গ্যাস।

এবারের প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে ১১ ইনিংসে ৫৩.৬৬ গড়ে দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরিসহ আলীর ব্যাট থেকে এসেছে মোট ৪৮৩ রান। দলের হয়ে এই মৌসুমে তিনি দ্বিতীয় শীর্ষ রানসংগ্রাহক। এর আগে মৌসুমে তাঁর প্রথম শতকটি (১০১ রান) এসেছিল টুর্নামেন্টের ফাইনালিস্ট স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের বিপক্ষে, যদিও সেই লড়াইয়ে ঘানি এক ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজয় বরণ করে।

বোলিংয়ে বাবার মতো অতটা বিধ্বংসী হতে না পারলেও পেস হাত ঘোরাতে পারেন আলী। বর্তমান মৌসুমে ৭ ইনিংসে ২৬.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ঝুলিতে পুরেছেন দুটি উইকেট। এখন পর্যন্ত ১৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩৯.৪৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৯৮৭ রান। এর আগে চলতি বছরের প্রারম্ভে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপেও হইচই ফেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার। টুর্নামেন্টে লাহোর ব্লুজের জার্সিতে মুলতান রিজিয়নের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ২৬ বলে ৪৫ রান করার পথে এক ওভারেই তুলেছিলেন ২৬ রান। এবার দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন রাজ্জাকপুত্র।