খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত হলো

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত হলো

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত হলো

অর্থনীতি ডেস্ক: স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য পুনরায় সমন্বয় করা হয়েছে। দেশের বাজারে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস সোনার দাম বাড়ানোর এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনা ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়, যা দেশের সকল বাজারে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জুয়েলারি সামগ্রী ক্রয়ের জন্য আগের তুলনায় কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বাড়িয়ে দুই লাখ চব্বিশ হাজার ছয়শত বত্রিশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে দুই লাখ চৌদ্দ হাজার ছয়শত সাতাত্তর টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের এক লাখ চুরাশি হাজার চারশত একাত্তর টাকা খরচ করতে হবে এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার পাঁচশত ষোল টাকা।

সোনার পাশাপাশি রুপার বাজারেও দামের পরিবর্তন এনেছে বাজুস কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুপার নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার আটশত ঊনচল্লিশ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি তিন হাজার ছয়শত চুয়াত্তর টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা তিন হাজার একশত উনপঞ্চাশ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা দুই হাজার তিনশত একানব্বই টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গহনার নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যুক্ত থাকবে। পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দেশের সকল স্বর্ণের দোকানে এই নির্ধারিত মূল্য তালিকা বলবৎ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কমিটি জানিয়েছে।

advertisement
advertisement

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অফিসের সময় মেনে না চলার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ই পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। বিচারকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেরিতে আদালতে প্রবেশ এবং দুপুর গড়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত সময় সঠিকভাবে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। কোনো বিচারক যদি সকাল ১১টায় এসে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ শেষ করে চলে যান, তবে সেই অনিয়ম কোনোভাবেই চলতে পারে না। এ সময় কড়া ভাষায় তিনি উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধার সুযোগ রাখা হবে না এবং কাজের প্রতি অবহেলা বন্ধ করতে হবে।

তরুণ বিচারকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের বিচারকরা যথেষ্ট মেধাবী ও স্মার্ট। বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার মূর্ত প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই এবং ডিজিটাল যুগের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ বিচারকদের আরও বেশি দক্ষ ও দূরদর্শী হতে হবে। মামলার জট কমানোর বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সাড়ে ছেচল্লিশ লাখের বেশি মামলা ঝুল রয়েছে, যা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বিচারিক চাপ হ্রাসে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার অংশ হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো ই পারিবারিক আপিল আদালত চালু করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডিজিটাল পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মূলত বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই আধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং শিশুর অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক মামলা ডিজিটালি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিচারালয়ে ই-বেইল বন্ড, ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ ও হাজিরা পদ্ধতি চালুর ফলে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন। বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে আরও নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলি ধারণ করে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ২৯ অক্টোবর রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ছয় মাসমেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নবীন কর্মকর্তাদের এই মিলনমেলায় পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনীর প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং সেবাপ্রত্যাশী প্রতিটি নাগরিককে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করতে হবে। সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রলোভন ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে জনমানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয় জয় করার মাধ্যমেই কেবল সত্যিকার অর্থে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম বলেও জানান তিনি।

অতীতের বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ এবং মানবিক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান যে, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন ক্রয়, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সরবরাহের মতো বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা ও নানা আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করা নবীন কর্মকর্তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কোনো ধরনের বৈষম্য ও অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বর্তমান সময়ের অপরাধ জগতের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, প্রথাগত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই জটিল অপরাধসমূহ সফলভাবে দমন করতে হলে কেবল গতানুগতিক অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের সাহায্য নিতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পেশিশক্তি বা পক্ষপাতিত্বের পথ পরিহার করে শতভাগ পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকারী এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সম্মাননা পদক ও পুরস্কার তুলে দেন। ২৭তম সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচ মিলিয়ে মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মজীবন শুরু করলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পুলিশ সদস্যদের কাজের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। পরিশেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের দেশের নিরাপত্তায় একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন যে বর্তমান সরকার দেশের প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে। রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২৭তম সার্জেন্ট এবং ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। তিনি পুলিশ সদস্যদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে অপরাধীর মনে ভীতি এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিধান করাই তাদের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। বর্তমান যুগে অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ায় ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে নবীন কর্মকর্তাদের কারিগরি জ্ঞান অর্জন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় তিনি সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশজুড়ে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।

পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে একটি স্বাধীন পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে ব্রিটিশ আমলের পুরোনো পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়ের চাহিদা মেটাতে আধুনিক ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড এবং পারস্পরিক সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল শক্তি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন যে মাদক কেবল ব্যক্তিজীবনই ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শন করা যাবে না। অনুষ্ঠানে মোট ২৪৬ জন নবীন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যাঁদের মধ্যে অতীতে চাকরিচ্যুত হওয়া কিছু কর্মকর্তাও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসিত হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।