খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি নারী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি নারী

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি নারী

জাতীয় ডেস্ক: উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ উপায়ে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন ১০ জন বাংলাদেশি নারী। সম্প্রতি দুই দেশের সরকারের পারস্পরিক কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব নারীকে হস্তান্তর করে।

ফিরে আসা এই নারীদের মধ্যে রয়েছেন সুমি খাতুন, সাবিনা বেগম, নুরবানু, টুম্পা বেগম, হালিমা খাতুন, তন্বী আক্তার, মুন্নি আক্তার, জান্নাতি খাতুন, সামিয়া আক্তার এবং শিরিনা খাতুন। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন যশোর, খুলনা, নড়াইল, ফরিদপুর ও চাঁদপুরে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থার তত্ত্বাবধানে তাদের নিজ নিজ এলাকায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে এবং ভালো কর্মসংস্থানের আশ্বাসে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে পুনে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা আটক হন। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে এবং সাজা ভোগ শেষে তাদের পুনের কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকে রাখা হয়।

কারাগার থেকে মুক্তির পর ভারতের একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে আশ্রয় দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এবং বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করার পর তাদের জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামক একটি মানবাধিকার সংস্থার যশোরে অবস্থিত শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটির যশোরের ডেপুটি ম্যানেজার মুহিত হোসেন জানান, শেল্টার হোমে তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হবে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ঝুঁকিপূর্ণ দিক এবং দালালের প্রতারণা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

advertisement
advertisement

ভালো কাজে বাধা দিলে সরকার আরও কঠোর হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভালো কাজে বাধা দিলে সরকার আরও কঠোর হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

ভালো কাজে বাধা দিলে সরকার আরও কঠোর হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: সরকারের উদার মনোভাবকে কোনোভাবেই দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভালো কাজের পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। সম্প্রতি নাটোরের লালপুর উপজেলায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের ৯৪তম আখমাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে বর্তমান প্রশাসন সব মহলের সহযোগিতা নিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশ পরিচালনা করতে আগ্রহী। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে একটি সমৃদ্ধশালী ও সুন্দর রাষ্ট্র গঠন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে ও খাতের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসররা নানাভাবে সরকারের কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলোকে ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

ফ্যাসিবাদী চক্রের এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রশাসন সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকার প্রতিটি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত নয় বলে যারা ভুল ধারণা পোষণ করছেন, তারা মারাত্মক ভুল করছেন বলে সতর্ক করে দেন প্রতিমন্ত্রী। সঠিক সময়ে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। এছাড়া নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া টুটুল এবং লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে রোববার: শ্রমমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে রোববার: শ্রমমন্ত্রী

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে রোববার: শ্রমমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি শ্রমিক ফেডারেশনের বিভিন্ন জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাজধানীর মিন্টো রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে দীর্ঘ সময় ধরে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করে আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ সময় শ্রমমন্ত্রী শ্রমিকপক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য উপস্থিত নেতাদের কাছে নাম আহ্বান করেন। শ্রমিক জোটগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক অভিজ্ঞ নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়। সরকার ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় বৈঠকে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধের জন্য কারখানা মালিক এবং শ্রমিকনেতাদের যৌথভাবে কাজ করার তাগিদ দেন মন্ত্রী। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি জানান, কোনো কারখানা বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাই করতে হলে অবশ্যই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে জানাতে হবে।

উক্ত বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পোশাকশিল্প শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথিতযশা নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বাবুল আখতার, তৌহিদুর রহমান, সুলতানা আক্তার, মন্টু ঘোষ, মোশরেফা মিশু, নাজমা আক্তার এবং তসলিমা আখতারসহ অনেকে অংশ নেন। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিল্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

প্রোটিয়া ও অজিদের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রোটিয়া ও অজিদের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

প্রোটিয়া ও অজিদের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

খেলা ডেস্ক: কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে। টেবিল মাউন্টেনের ছায়াঘেরা ২২ গজে এই লড়াই কেবল একটি সাধারণ খেলা নয়, বরং দুই দলের খেলোয়াড়দের ধৈর্য, প্রতি আক্রমণ এবং স্নায়ুশক্তির এক চরম পরীক্ষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ম্যাচের প্রথম থেকেই দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে দারুণ দৃঢ়তা দেখান। মার্ক্কেস অ্যাকারম্যান মাত্র পাঁচ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেও তার নান্দনিক ৯৫ রানের ইনিংসটি দলকে শক্ত ভিত্তি দেয়। এছাড়া ডেভিড বেডিংহামের অর্ধশতক প্রোটিয়াদের একটি নিরাপদ স্কোরের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে তাদের প্রথম ইনিংস ৩২৯ রানে থেমে যায়। অজি পেসার স্টার্ক ৭২ রান খরচ করে ছয়টি উইকেট শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।

এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া তাদের চ্যাম্পিয়ন মানসিকতার দারুণ পরিচয় দেয় এবং ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ম্যাচে চালকের আসনে বসে যায়। দলের এই সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন জস ইংলিশ, যার চমৎকার শতকটি দলের ইনিংসকে দারুণ গতি দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি এবং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন, যাদের দায়িত্বশীল ইনিংসগুলো অজিদের লিডকে অনেকদূর এগিয়ে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার সাইমন হারমার এবং মার্কো ইয়ানসেন যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং দুর্গ ভাঙতে তাদের যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে।

প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উইয়ান মুল্ডার ও রিয়ান রিকেলটনের দুটি দুর্দান্ত শতক ম্যাচের সম্পূর্ণ চিত্রপট পাল্টে দেয়, যেখানে মুল্ডারের ১১৫ এবং রিকেলটনের ১০১ রানের ইনিংস দুটি ছিল বেশ লড়াকু। এছাড়া অ্যাকারম্যানের আরও একটি দায়িত্বশীল অর্ধশতক প্রোটিয়াদের লিডকে এক রোমাঞ্চকর উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে কেপটাউনের এই মহাকাব্যিক টেস্ট ম্যাচটি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।