খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

বাংলাদেশে আসছেন মুফতি তাকি উসমানি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাংলাদেশে আসছেন মুফতি তাকি উসমানি

বাংলাদেশে আসছেন মুফতি তাকি উসমানি

ধর্ম ডেস্ক: মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলেম ও পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। আগামী ২২ নভেম্বর তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং সফর শেষে আগামী ২৮ নভেম্বর তার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও শাইখুল হাদিস মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি অর্থনীতি, ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের গবেষক হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে এবং তিনি পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের সাবেক বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

তার এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ১৫ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন এই বিশিষ্ট আলেম। আগামী ২২ নভেম্বর বাদ জোহর রাজধানীর কাওলা নামাপাড়ায় এই মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বড় ধর্মীয় আয়োজন ছাড়াও তার ঢাকা সফরকালে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামে কেরাম ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।

এই মহাসম্মেলনে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ছাড়াও পাকিস্তানের আরও একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি হলেন পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব এবং মুলতানের খাইরুল মাদারিসের মুহতামিম মাওলানা হানিফ জালন্ধরী। বিদেশি এসব খ্যাতনামা আলেমের উপস্থিতি এই মহাসম্মেলনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানির মতো একজন বিশ্বমানের ইসলামি গবেষক ও বিচারপতির আগমন বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে দারুণ উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। তার এই সফর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আলেম সমাজের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সফরকালীন কর্মসূচিগুলো সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

advertisement
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবতী নির্বাচনের প্রচারণা জমে উঠেছে

রাজনৈতিক বিশ্বাস কিংবা আদি নিবাস যা-ই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রত্যেক অভিবাসীর দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে শামিল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের ভোটাধিকার রয়েছে, তাঁদের কালবিলম্ব না করে ভোটার হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করা এবং চলতি বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া উচিত। একটি সুদৃঢ় ও উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ ছাড়াই ভোটাধিকার চর্চার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় সৌভাগ্য। অথচ এই অনন্য অধিকারটির তাৎপর্য আমরা অনেক সময়ই যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারি না। বিশ্বের বহু অঞ্চলেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেলে অর্থনৈতিক বা আর্থসামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করতে হয়; এমনকি আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশেও দলীয় আনুগত্য কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন ভোটাধিকার এখনো বহু মানুষের কাছে এক অপূর্ণ স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বামমুখী হাওয়া লক্ষ্য করা গেলেও আমেরিকার রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের বলিষ্ঠ সম্পৃক্ততা দেশটির জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশি আমেরিকান সমাজের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাঙালি হিসেবে রাজনীতি ও রাজনৈতিক সচেতনতা যেন আমাদের মজ্জাগত। পৃথিবীর যেখানেই আমরা থাকি না কেন, ভোটকে আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রহণ করি এবং দেশের রাজনীতির প্রতিও গভীর অনুরাগ বজায় রাখি। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি শীর্ষ রাজনৈতিক দলেরই শাখা রয়েছে এবং এসব দলের অনুসারীরা প্রায়ই জন্মভূমির নানা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতায় মেতে ওঠেন। এই সচেতনতা ও সক্রিয়তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার হলেও এটি উপলব্ধি করা দরকার যে, আমাদের এই কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও জাতীয় স্বার্থের নিরিখে পর্যালোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ কিংবা ভেনেজুয়েলার মতো রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব কারো অজানা নয়। বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসেবে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আধিপত্য ও প্রভাব বজায় রাখা ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বিশেষ ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং সেখানে দেশটির ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আমেরিকানরা বড় প্রভাবক হতে পারেন।

কেবল পছন্দের রাজনৈতিক নেতাদের নাম মুখে নিয়ে কিংবা মুখোমুখি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মিলবে না। বরং ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান কিংবা স্বতন্ত্র ভোটার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে হবে। এর সূচনা হওয়া উচিত চলতি বছরের নভেম্বর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ভোটার নিবন্ধন করার মাধ্যমে। অভিবাসীদের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং এর ঐতিহাসিক এলিস আইল্যান্ড লাখ লাখ মানুষের আমেরিকায় প্রবেশের ঐতিহাসিক সাক্ষী। এখানকার রাজনীতিবিদরা অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান ও গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাসের কারণে অঙ্গরাজ্য এবং জাতীয়—উভয় পর্যায়ের রাজনীতিতেই আমাদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেখানকার যোগ্য সকল বাংলাদেশিকে ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর আহ্বান জানাই। অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে কিংবা স্বতন্ত্র ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া সম্ভব। একই সাথে সবাইকে রাজনৈতিক সংগঠনে সক্রিয় হওয়া, সভা-সমাবেশে মত প্রকাশ এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। রাজনীতিতে এই সক্রিয়তাই দিনশেষে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। (লেখক: ড. দিলওয়ার আরিফ, সহযোগী অধ্যাপক, মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম এবং পরিচালক, জার্নালিজম, ক্যানিসিয়াস ইউনিভার্সিটি, বাফেলো, নিউইয়র্ক। ইমেইল: delawarearif@gmail.com)

মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ চার দিন বন্ধ, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ চার দিন বন্ধ, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা

ফিলিং স্টেশনের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন

কক্সবাজারের মহেশখালীতে নোঙর করা সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে টানা চার দিন গ্যাস সরবরাহ স্থগিত থাকবে। এর প্রভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দৈনিক ৩২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেতে পারে, যা দেশব্যাপী পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দিতে পারে। রোববার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস ছাড়ার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। আমদানিকৃত তরল গ্যাস রূপান্তরের জন্য মহেশখালীতে থাকা দুটি টার্মিনালের মোট জোগান দেওয়ার ক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে বর্তমানে ৯২ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সামিটের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এলএনজি থেকে জাতীয় সঞ্চালনে সরবরাহ কমে দাঁড়াবে ৬০ কোটি ঘনফুটে। সাময়িক এই সমস্যার জন্য গ্রাহকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ রয়েছে মাত্র ২৫২ কোটি ঘনফুট। এই জোগানের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৬০ কোটি ঘনফুট এবং বাকি অংশ আমদানি করা এলএনজি থেকে আসছে। ফলে নতুন করে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প কলকারখানা ও গৃহস্থালি খাতে ভোগান্তি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও সামিটের এই টার্মিনালটিতে একই ধরনের মেরামতের কাজ করা হয়েছিল।

কিশোরী বয়সেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, রাজপুত্রকে চুম্বন থেকে প্রেমে গৃহত্যাগ: পদ্মিনী কোলহাপুরের বর্ণময় জীবন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কিশোরী বয়সেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, রাজপুত্রকে চুম্বন থেকে প্রেমে গৃহত্যাগ: পদ্মিনী কোলহাপুরের বর্ণময় জীবন

পদ্মিনী কোলহাপুরে। এক্স থেকে

ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্রের আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ পদ্মিনী কোলহাপুরের আজ ১ নভেম্বর জন্মদিন। ১৯৬৫ সালের ১ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের এক সাঙ্গীতিক পরিবারে জন্ম নেন তিনি। তাঁর পিতা পণ্ডিত পণ্ডরীনাথ কোলহাপুরে ছিলেন বিশিষ্ট সুরসাধক। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলে সম্পর্কে তাঁর আত্মীয়। তিন বোনের মধ্যে মেজ পদ্মিনী শৈশবে গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং দুই প্রখ্যাত পিসির দলের সঙ্গে কোরাসেও অংশ নেন; এমনকি নিজের কয়েকটি চলচ্চিত্রে কণ্ঠদানও করেন। তবে ভাগ্য তাঁকে টেনে নিয়ে যায় রূপালি পর্দায়। তাঁর বড় বোন শিবাঙ্গী কোলহাপুরের স্বামী অভিনেতা শক্তি কাপুর এবং তাঁদের মেয়ে অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর; কনিষ্ঠ বোন তেজস্বিনীও অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাত্র সাত বছর বয়সে ১৯৭২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের খাতায় নাম লেখান পদ্মিনী। ‘ইশক ইশক ইশক’, ‘জিন্দেগি’ ও ‘ড্রিম গার্ল’-এ ছোট চরিত্রে রূপদানের পর ১৯৭৮ সালে রাজ কাপুরের ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ চলচ্চিত্রে জিনাত আমান অভিনীত চরিত্র রূপার বাল্যকালের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি প্রভূত খ্যাতি লাভ করেন।

এরপর ১৯৮০ সালে ‘ইনসাফ কা তারাজু’ সিনেমায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর জটিল যন্ত্রণাদায়ক চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় উপহার দেন তিনি। এই অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে মাত্র ১৫ বছর বয়সে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে তাক লাগিয়ে দেন। ১৯৮১ সালে ‘আহিস্তা আহিস্তা’ ছবিতে বিশেষ প্রশংসা কুড়োনোর পর ১৯৮২ সালে রাজ কাপুর নির্মিত ‘প্রেম রোগ’-এ ঋষি কাপুরের বিপরীতে উচ্চবর্ণের এক তরুণ বিধবার ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে করা সেই বলিষ্ঠ অভিনয়ের সুবাদে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর খেতাব অর্জন করেন পদ্মিনী। পরবর্তী সময়ে ‘বিধাতা’, ‘ওহ সাত দিন’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘স্বর্গ সে সুন্দর’, ‘মুদ্দত’ ও ‘দাতা’র মতো অজস্র ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেন তিনি। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর রসায়ন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

সাফল্যের পাশাপাশি কিছু হাতছাড়া হয়ে যাওয়া কাজের আক্ষেপও রয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারে। ‘সিলসিলা’, ‘তোহফা’ ও ‘এক দুজে কে লিয়ে’র মতো ছবিগুলো ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাঁকে, যে চরিত্রগুলোতে পরবর্তী সময়ে যথাক্রমে রেখা, শ্রীদেবী ও রতি অগ্নিহোত্রী অভিনয় করেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ রাজ কাপুরের ‘রাম তেরি গঙ্গা মেইলি’। পর্দায় চুম্বনদৃশ্যে আপত্তি থাকায় তিনি মুখ্য চরিত্রটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন, যা পরবর্তীতে মন্দাকিনীকে খ্যাতি এনে দেয়। পরিচালক মন্দাকিনীকে নিয়ে ৪৫ দিন চিত্রগ্রহণের পরও পদ্মিনীকে নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। পর্দার বাইরে ১৯৮১ সালে মুম্বাইয়ের রাজকমল স্টুডিওতে ‘আহিস্তা আহিস্তা’র সেটে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস (বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস) উপস্থিত হলে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী শশীকলা আরতি করার পর পদ্মিনী সরল আনন্দ ও সৌজন্যবশত চার্লসের গালে একটি চুম্বন আঁকেন। সেই দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দেয় এবং পদ্মিনীকে নিয়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হয়, এমনকি তাঁর আইনজীবী চাচাকে নোটিশের জবাব দিতে হয়। ২০২২ সালে চার্লসের সিংহাসনে আরোহণের পরও এই স্মৃতি ফিরে আসে; যুক্তরাজ্যে একবার অভিবাসন কর্মকর্তাও পদ্মিনীর পরিচয় পেয়ে এই প্রসঙ্গ তোলেন।

ব্যক্তিজীবনে পর্দার সহশিল্পী ঋষি কাপুরের ঘোর ভক্ত ছিলেন পদ্মিনী; বাল্যকালে স্কুল ফাঁকি দিয়ে এবং মা-বাবাকে মিথ্যা বলেও ঋষির ছবি দেখতে যেতেন। পরে তাঁর সঙ্গেই ‘জামানে কো দিখানা হ্যায়’ ছবির ‘পুছো না ইয়ার ক্যায়া হুয়া’ গানের দৃশ্যে অভিনয়ের স্মৃতি তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ২০২০ সালে ঋষি কাপুরের মৃত্যুতে তিনি গভীর শোকাহত হন। এদিকে তাঁর বাস্তব জীবনের প্রণয়কাহিনীও কোনো চিত্রনাট্যের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর ছিল না। ১৯৮৬ সালে ‘আইসা পেয়ার কাহাঁ’ ছবির শুটিং চলাকালে প্রযোজক প্রদীপ শর্মা ওরফে টুটু শর্মার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেম গড়ে ওঠে। কিন্তু রক্ষণশীল মারাঠি পরিবারের আপত্তির মুখে পদ্মিনী নিজের ভালোবাসাকে ত্যাগ করেননি। বড় বোন শিবাঙ্গী, দুলাভাই শক্তি কাপুর এবং অন্তরঙ্গ বান্ধবী পুনম ধিল্লনের সহযোগিতায় বাড়ির পেছনের প্রাচীর টপকে পালিয়ে গিয়ে ১৯৮৬ সালে প্রদীপকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর নবদম্পতি জয়পুরে পাড়ি জমান এবং ওই ছবির কিছু দৃশ্য পুনরায় ধারণ করতে হয়। পরবর্তীতে তাঁদের একমাত্র সন্তান প্রিয়াঙ্ক শর্মা ২০২১ সালে প্রযোজক করিম মোরানির কন্যা শাজা মোরানিকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ দাম্পত্যে পদ্মিনী ও টুটু শর্মা আজও একসঙ্গেই রয়েছেন।

টানা অভিনয়ের ক্লান্তি এবং দাম্পত্য ও মাতৃত্বকে প্রাধান্য দিতে ১৯৮৯ সালের দিকে অভিনয়জীবন থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন পদ্মিনী। দীর্ঘ ব্যবধানের পর ২০০৩ সালে ‘চিমানি পাখর’ নামক মারাঠি ছবির মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। পরবর্তীতে ‘মাই’, ‘দ্য ডটার’, ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’ ও ২০১৯ সালের ‘পানিপথ’-এ তিনি কাজ করেন। ছোট পর্দায় ‘এক নায়ি পেহচান’ ধারাবাহিক, ওটিটিতে ‘দিল বেকারার’ এবং মঞ্চে ‘বাপ কা বাপ’ নাটকে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ২০২৪ সালে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে পাঁচ দশকের পথচলায় থিয়েটার তাঁকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার নতুন স্বাদ দিয়েছে। প্রায় ১২ বছর পর ২০২৫ সালে ঐতিহাসিক মেগা ধারাবাহিক ‘চক্রবর্তী সম্রাট পৃথ্বীরাজ চৌহান’-এ রাজমাতার চরিত্রে ছোট পর্দায় প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। তবে সুবিশাল ক্যারিয়ারে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে না পারার খামতি আজও তাঁর মনে আক্ষেপ হয়ে রয়ে গেছে।