খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

নীলফামারীতে দাদন ব্যবসায়ীর শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার রিপন মিয়া নামক অত্যাচারিত এক দাদন ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই ভুক্তভোগীরা। শনিবার দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি মো. রশিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম, পল্লী চিকিৎসক মো. গাউসুল আজম, মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আফজালুল হক, কলেজ শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে রনচন্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। এর বিপরীতে তাকে চেক বইয়ের ফাঁকা ২০টি পাতা দিতে হয়েছে। টাকা পরিশোধ করার পরেও তিনি আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। এখনো তার কাছে আমার চেক বইয়ের ১৬টি পাতা জমা আছে। মূল টাকার সঙ্গে উচ্চহারে সুদ দিয়েও আমাকে হয়রানি করছেন তিনি।’ অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি রিপন মিয়ার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। সুদসহ আমি তাকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। তিনি চেক বইয়ের দুটি পাতা নিলেও একটির বিপরীতে ১৬ লাখ টাকা এবং অপরটির বিপরীতে ১৪ লাখ টাকার মামলা করেছেন।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রিপন মিয়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের বাসিন্দা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের সদস্য। রাজনৈতিক মামলায় আট মাস কারাভোগ করেছেন তিনি। উচ্চ সুদে টাকা ধার দিয়ে তা আদায়ের পরেও শতাধিক মামলা করেছেন তিনি। এসব মামলা তার আপন ভাই, ভগ্নিপতি, শ্যালক, শ্যালিকা, শ্যালকের ছেলে ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দিয়ে করা হয়ে থাকে।’ কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘রিপন মিয়ার দাদন ব্যবসার কারণে নিজ উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার অনেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। অনেকে জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়েছেন। এমনকি তার কারণে অনেক পরিবারে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে। তার অত্যাচারে অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রিপন মিয়ার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আদালতে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

The post নীলফামারীতে দাদন ব্যবসায়ীর শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.

advertisement
advertisement

খরচের চাপে ৮১% কর্মীর অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খরচের চাপে ৮১% কর্মীর অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই

খরচের চাপে ৮১% কর্মীর অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বেসরকারি খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মী বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তা ও খরচের চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানোর তাগিদে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ কমে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় ৮১ শতাংশ কর্মীরই কোনো নির্দিষ্ট অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই। মূলত তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে কর্মীরা ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের বিষয়টি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

বহুজাতিক বিমা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ বাংলাদেশের করা এই সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনটি রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। চলতি বছর আগস্ট মাসে পরিচালিত এই জরিপে দেশের বিভিন্ন খাতের ৭০৯ জন অংশ নেন, যার মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তৈরি পোশাক, ব্যাংক, টেলিকম, এনজিও এবং খুচরা বিক্রেতাসহ নানা খাতের কর্মীদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকের বেশি কর্মী জানিয়েছেন যে অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কারণে তাঁদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ৭২ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন যে এই ধরনের আর্থিক চাপ তাঁদের কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে ভবিষ্যৎ সঞ্চয় করার প্রবণতাও হ্রাস পাচ্ছে। এর আগের বছর এই হার তুলনামূলক কম থাকায় এটি স্পষ্ট যে বর্তমান সময়ে কর্মীরা অনেক বেশি আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের কর্মীরা তাঁদের নিয়োগকর্তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় ৮১ শতাংশ কর্মী মনে করেন তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং ৮৬ শতাংশ কর্মী চান প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের অবসরকালীন সঞ্চয়ে সরাসরি সহায়তা করুক। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমান কর্মপরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

শিক্ষা ডেস্ক: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন গ্রামীণ অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শহরের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ফলাফল করলেও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘ আট বছর আগে জাতীয়করণ হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই বোর্ডের গড় পাসের হার অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের গ্রামীণ কলেজগুলোতে শিক্ষার মান আশানুরূপভাবে উন্নত হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, রাজশাহী বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারের তুলনায় উপজেলাগুলোর কলেজগুলোতে পাসের হার অনেক নিচে নেমে গেছে। এর ফলে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনের কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজশাহী বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও জেলার নয়টি উপজেলার সরকারি কলেজগুলোর গড় পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা দেখা গেছে গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই কলেজ থেকে অংশগ্রহণকারী দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪২ জন এবং একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে দুর্গাপুরের দাউকান্দি সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এছাড়া বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি কলেজে পাসের হার সামান্য বেশি হলেও তা বোর্ডের গড়ের নিচে রয়েছে, যা ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে তানোরের সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই কলেজে চার শতাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে বড় একটি অংশ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ফলাফলকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক মনে করছেন না প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোস্তফা কামাল হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এই ফলাফল তাদের আনন্দিত করেনি এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

তবে এই সামগ্রিক বিপর্যয়ের মাঝেও কয়েকটি কলেজ তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। এর মধ্যে চারঘাটের সরদহ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন। এই কলেজে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বোর্ডের গড় পাসের হারকে ছাড়িয়ে গেছে। এখান থেকে শতাধিক পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সফল হয়েছেন। এছাড়া মোহনপুর সরকারি কলেজে পাসের হার ৬১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। এই তুলনামূলক ভালো করা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করতে সক্ষম। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কয়েকটি কলেজ ভালো করলেও বেশিরভাগ উপজেলা কলেজেই চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব সফল প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো অন্যান্য কলেজে প্রয়োগ করা যেতে পারে কি না, তা নিয়ে শিক্ষাবিদেরা নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

গ্রামীণ কলেজগুলোর এই ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষবিমুখতাকে প্রধানত দায়ী করছেন। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে কিছুদিন নিয়মিত ক্লাস করলেও দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করার পর থেকেই তারা শ্রেণিকক্ষ বিমুখ হয়ে পড়ে। তারা স্কুল-কলেজের ক্লাসের পরিবর্তে কোচিং সেন্টার এবং ব্যক্তিগত প্রাইভেটের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের বারবার অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় না। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করার পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রায় বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক বছরে স্বাভাবিক নিয়মেই অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন, কিন্তু তাদের বিপরীতে নতুন কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজগুলোতে নিয়মিত ও যথাযথ পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির এই দুই সংকটের বেড়াজালে গ্রামীণ পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্বের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়া সংলাপে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বাড়তি সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং এই সুযোগের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে হলে আগামী তিন বছর দেশের নীতিনির্ধাতকদের ব্যতিক্রমী সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এখন এই প্রস্তুতি পর্বের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয় বা আমলাতন্ত্রের রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একসাথে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত করা।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাত, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরবরাহব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সংস্কার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। অতীতের ধারাবাহিকতা ভেঙে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের বাস্তব রূপায়ণই এই মুহূর্তে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করে সিপিডি।

সংস্কার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত এজেন্ডায় বিষয়টি রাখা, সংসদীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য একটি সর্বজনীন ড্যাশবোর্ড চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, সংসদ সদস্য, বেসরকারি খাত এবং গণমাধ্যমকে এক সাথে যুক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক রূপরেখা তৈরি না করলে এই বাড়তি সময়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, কেবল পুরোনো বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখার পেছনে সময় না দিয়ে বরং উত্তরণ-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মানদণ্ড যেমন কার্বন কর, শ্রম অধিকার ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। এছাড়া নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, এলডিসি উত্তরণের মূল লক্ষ্য কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার সুফল দেশের সাধারণ মানুষও ভোগ করতে পারবে।