খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

শিক্ষা ডেস্ক: অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এর আগে একই শিক্ষার্থী পা দিয়ে লিখে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন। তার এই ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাব্বির এই জয়যাত্রা এখন অনেকের জন্যই এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

রাব্বির এই জীবন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, যখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর একটি ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার শরীরের দুই হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পর দরিদ্র পরিবারের এই কিশোরের জীবন ও ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাব্বি কোনো অবস্থাতেই হার না মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

প্রাথমিকভাবে লেখার জন্য মুখ ব্যবহার করলেও পড়াশোনার গতি বাড়াতে তিনি পা দিয়ে লেখার কৌশল রপ্ত করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লেখার পর পরবর্তী সময়ে পা দিয়েই সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফল হতে থাকেন তিনি। তার এই দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক এবং বিভিন্ন দাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌসী কাদরী রাব্বির পড়াশোনার আর্থিক খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ওসমান নামের এক শিক্ষক তাকে বিনামূল্যে কোচিং করিয়েছেন। বাবা-মায়ের দিনমজুরির সামান্য আয়ের সংসার আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও রাব্বি তার পড়াশোনা সফলভাবে চালিয়ে গেছেন।

ভবিষ্যতে একজন বিজ্ঞানী হওয়ার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন রয়েছে রাব্বির এবং তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, মনের জোর থাকলে যে কোনো বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। রাব্বির এই সংগ্রাম ও সাফল্য কেবল তার নিজের পরিবারকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে তার এই সাহসিকতা ও অধ্যবসায় এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

advertisement
advertisement

ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের আর্থিক খাতের দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবে সৃষ্ট সংকটের কারণে অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক খাত থেকে লাগামহীনভাবে অর্থ বের করে নেওয়ার কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হলেও সেগুলোর পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলেও ব্যাংকিং খাতের ক্ষত সারাতে আরও বেশ কিছুটা সময় প্রয়োজন। শুধু ব্যাংকিং সংস্কার করলেই পুরো অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না, বরং এর জন্য রাজস্ব খাতের দুর্বলতা কাটানো অত্যন্ত জরুরি। কর ও জিডিপির অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার দশা হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং গ্যাস অনুসন্ধানসহ প্রধান প্রধান খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই শীর্ষ ব্যাংকার। তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা দোষীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর কারখানা ও ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলোও চাপে রয়েছে। তবে ভালো ব্যাংকগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণপত্র খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ৩৭ বছরের ব্যাংকিং জীবনে তিনি এবারই প্রথম দেশের অর্থনীতিতে প্রকৃত মন্দা পরিস্থিতি দেখছেন বলে জানান। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত সমাজের একটি অংশ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দিনে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের একত্রীকরণ অনিবার্য হয়ে উঠবে এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সুশাসন ও শক্ত নীতিমালার বিকল্প নেই।

‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’

‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’

রাজনীতি ডেস্ক: বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক লংমার্চের পথসভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষের হাতে একটি বিশেষ কার্ড রয়েছে এবং সেটি হলো লাল কার্ড। উপযুক্ত সময়ে জনতা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সেই কার্ড কার্যকর করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যশোরের মুড়লী মোড়ে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। মূলত সাত দফা দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে এই লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন এবং দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে জামায়াত নেতা আরও বলেন যে, জনগণের কণ্ঠস্বর চেপে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে এসেছে এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি। সরকারের দমনপীড়ন উপেক্ষা করে জনস্রোত তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে এই পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারি নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বাকবিতণ্ডা আরও বাড়তে পারে।

সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

অপরাধ ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে বা বিডিএস কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি টাকা না দিলে জমির রেকর্ড না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে একজনের জমি অন্য ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি জরিপের কাজ সম্পূর্ণ না করেই সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়াররা হঠাৎ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চন্দহর ইউনিয়নের ফতেহপুর মৌজা এবং সিংগাইর পৌরসভার বিনোদপুর বড়খণ্ড মৌজায় এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। জমির সঠিক পরিমাপ ও মালিকানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের অনিয়মের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জমি নিজেদের দখলে থাকা সত্ত্বেও এবং বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের পরেও সার্ভেয়ারদের দাবি করা টাকা দিতে না পারায় তাদের নাম রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বার্তা গ্রামের মোড়ল বাড়ির মো. সিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের আড়াই বিঘা জমি রেকর্ডভুক্ত করার জন্য দায়িত্বরত সার্ভেয়ার প্রতি শতাংশের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। জমিসমূহ নিজেদের দখলে থাকা সত্ত্বেও এই বিশাল অঙ্কের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর জমি রেকর্ডের বাইরে রাখা হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর নিজের ১০ শতাংশ জমি রেকর্ড করতে নয় হাজার টাকা দিতে বাধ্য হলেও, একই দাগে তাঁর ভাবির সমপরিমাণ জমি রেকর্ড করার জন্য দালালের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। চাহিদামতো অর্থ প্রদান করতে না পারায় সেই জমির রেকর্ড সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জরিপের কাজে অনিয়মের ফলে সৃষ্ট ভুলের কারণে অনেক জমির মালিক এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানা গেছে। ফতেহপুর গ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি জানান, বৈধ দলিল ও নিজেদের দখল থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রায় ছয় শতাংশ জমি অন্য এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি জানান, এই ভুল সংশোধনের জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সংশ্লিষ্ট কাউকে পাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের নির্ধারিত কাজ অসমাপ্ত রেখেই সার্ভেয়াররা এলাকা ত্যাগ করেছেন। পলি নামের অপর এক জমির মালিক জানান, এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অসম্পূর্ণ জরিপ কাজ এবং সার্ভেয়ারদের হঠাৎ প্রস্থান এলাকার জমির মালিকদের গভীর আইনি ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার আলাউদ্দিন দাবি করেছেন যে তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে এবং কিছুদিন পর আবার জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন যে তাঁর দপ্তরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এখনো জমা পড়েনি। সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুন্নাহার পপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জমি জরিপ বা রেকর্ড করার কার্যক্রমে অর্থ লেনদেনের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া জরিপের সময় অনিচ্ছাকৃত বা অসদুপায়ে কোনো ভুল হয়ে কারও জমি অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে থাকলে প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসে ভুক্তভোগী মানুষেরা কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।