খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দৈনন্দিন রূপচর্চায় মুখের ত্বকের প্রতি যতটা যত্নশীল হওয়া যায়, মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঠিক ততটা মনোযোগ দেওয়া হয় না। অথচ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কোরিয়ান রূপচর্চা বা কে-বিউটি দর্শনের মূল কথাই হলো সুন্দর ও ঘন চুলের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে একটি স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্পের ভেতরে। কোরিয়ান নারীদের মতে মাথার ত্বক হলো মুখের ত্বকেরই একটি বর্ধিত অংশ, যার নিজস্ব সুরক্ষাকবচ বা প্রোটিন ব্যারিয়ার রয়েছে। তাই স্ক্যাল্পের সঠিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ওপরই সরাসরি নির্ভর করে চুলের আসল উজ্জ্বলতা ও মজবুতি।

কোরিয়ান পদ্ধতিতে কেবল চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করা বা কন্ডিশনার লাগানোর মাঝেই চুল ধোয়া সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এতে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। পরিবেশের নানা দূষণ, ধুলাবালি এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে মাথার ত্বকে যে ময়লা জমে, তা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কোরিয়ান কৌশলে স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল ও শুষ্কতা দূর করে এর আর্দ্রতা বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ নিয়মের বাইরে কোরিয়ান রুটিনে শ্যাম্পু করার পর এক্সফোলিয়েটর বা বিশেষ স্ক্যাল্প মাস্ক ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। শ্যাম্পু দিয়ে প্রাথমিক ময়লা পরিষ্কার করার পর ভালো মানের এক্সফোলিয়েটর বা এনজাইম পিল ব্যবহার করলে তা গভীর থেকে মৃত কোষ ও জমে থাকা কেমিক্যালের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি দূর করে। এর ফলে চুলের গোড়া চাঙ্গা হয় এবং চুল চিটচিটে না হয়ে বেশ ভলিউমিনাস বা প্রাণবন্ত দেখায়।

চুল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে কোরিয়ানরা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলেন যেমন অতিরিক্ত গরম পানি স্ক্যাল্পের ক্ষতি করতে পারে বিধায় তারা সবসময় ইষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া শ্যাম্পু করার সময় মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে চুল ধোয়া তাদের আরেকটি চমৎকার কৌশল, যার ফলে মাথার পেছনের কঠিন অংশগুলোতেও সহজে শ্যাম্পু পৌঁছে যায়। চুল ধোয়ার সময় কখনো নখ ব্যবহার করা হয় না, বরং আঙুলের নরম ডগা দিয়ে বা সিলিকন স্ক্যাল্প ব্রাশ দিয়ে বৃত্তাকারে আলতোভাবে ম্যাসাজ করা হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।

চুলকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে কোরিয়ানরা সময়ভিত্তিক প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার করে থাকেন এবং সকালে বা রাতে চুল ধোয়ার ওপর ভিত্তি করে রুটিন সাজান। এ ছাড়া বাতাসে থাকা দুর্গন্ধ দূর করতে এবং সারা দিন চুল সতেজ রাখতে স্ক্যাল্প টনিক বা হেয়ার পারফিউমের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। কোরিয়ানদের এই অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করে চুলের সাধারণ অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে যেকোনো চুল হয়ে উঠতে পারে আরও আকর্ষণীয় ও সতেজ।

advertisement
advertisement

দারিদ্র্য জয় করে এইচএসসিতে চমক: রাজারহাটে কলেজ পর্যায়ে একমাত্র জিপিএ-৫ পেল যমজ দুই বোন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দারিদ্র্য জয় করে এইচএসসিতে চমক: রাজারহাটে কলেজ পর্যায়ে একমাত্র জিপিএ-৫ পেল যমজ দুই বোন

জিপিএ–৫ পাওয়া যমজ বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার

সংসারের তীব্র অভাব-অনটন আর বাবার আর্থিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দমিয়ে রাখা যায়নি কুড়িগ্রামের রাজারহাটের যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদারকে। প্রবল মনোবল ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে উভয়ই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও তাঁরা দুজনেই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জ্বী গ্রামের এই দুই বোন রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কেবল রহিমা ও রাবেয়াই জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। শুধু নিজ কলেজই নয়, রাজারহাট উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একমাত্র এ দুই বোনই এই সাফল্য দেখিয়েছেন। রাজারহাটের সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, পুরো উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দুজন এবং কলেজ শাখায় দুজনসহ সর্বমোট চারজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন; যার মধ্যে কলেজ পর্যায়ের দুজনই এই যমজ সহোদরা।

রহিমা ও রাবেয়ার বাবা মনির হোসেন সরদারের স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থান নেই। তিনি সামান্য জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে দিনমজুর ও মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের মা নাসিমা বেগম একজন গৃহিণী। এই দম্পতির তিন কন্যার মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট দুজন হলেন এই যমজ বোন। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তাঁদের পড়াশোনা থেমে থাকেনি।

মেয়েদের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে মা নাসিমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট সহ্য করে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়েছেন। শিক্ষকেরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁদের পড়িয়েছেন এবং কলেজের অধ্যক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় নামমাত্র খরচ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে সরকারি উপবৃত্তি পাওয়ায় এবং সবার অকুণ্ঠ সহযোগিতায় মেয়েদের পক্ষে এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মানবিক বিভাগ থেকে কেবল এই দুই বোনই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাঁদের এই সাফল্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত এবং তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে।

নিজেদের পরিশ্রমের বর্ণনা দিয়ে রহিমা সরদার জানান, বাবার দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা এবং নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের তাগিদ থেকেই দিনরাত পড়াশোনা করেছেন। কলেজে আসা-যাওয়া ও খাওয়ার সময়টুকু ছাড়া বাকি পুরো সময়টাই পড়াশোনায় নিয়োজিত ছিল, এমনকি ঘুমানোর সময়ও ছিল অতি সীমিত। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাবেয়া সরদার বলেন, কোনো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ীই তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

টানা পাঁচ মাস তিন বিলিয়নের নিচে প্রবাসী আয়, ঊর্ধ্বমুখী ডলারের দর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টানা পাঁচ মাস তিন বিলিয়নের নিচে প্রবাসী আয়, ঊর্ধ্বমুখী ডলারের দর

মার্কিন ডলার

চলতি বছরের মে মাসের পর থেকে টানা পাঁচ মাস ধরে দেশে আসা রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের কোটা ছুঁতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৮৪ কোটি ডলার। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আয় সামান্য বেড়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার এবং আগস্টে তা বেড়ে হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এদিকে গত বছরের অক্টোবরে যেখানে ২৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, সেই তুলনায় সদ্য বিদায়ী অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং সুবিধার প্রসার ও ডলারের আনুষ্ঠানিক রেট স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের ধারা বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েনি। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা সত্ত্বেও এতে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমলেও অক্টোবরে তা ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ও রিজার্ভ গঠনে ইতিবাচক সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো আয় সব ইতিহাস ভেঙে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়, যার মধ্যে ছয় মাসেই ৩০০ কোটি ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া দুই বছর আগের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ এবং সেবারই প্রথমবারের মতো তা ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শক্তিশালী প্রবাহ ডলার বাজারে স্থিতি ধরে রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

তবে প্রবাসী আয় ইতিবাচক থাকলেও ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত ১৯ অক্টোবর আন্তব্যাংক লেনদেনে আমদানির জন্য ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা, যা গত বৃহস্পতিবার উন্নীত হয় ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়। এ সময়ে প্রতিদিন দর বেড়েছে ৫ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর ঘোষিত হার অনুযায়ী, বিদেশফেরতদের কাছ থেকে সিটি ব্যাংক নগদ ডলার সংগ্রহ করেছে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সায় এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকায়। ব্র্যাক ব্যাংক কিনেছে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে আর বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ক্রয় করেছে ১২৫ টাকায় ও বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ২৫ পয়সায়। অপরদিকে অগ্রণী ব্যাংক নগদ ডলার ১২৩ টাকায় কিনে ১২৪ টাকায় বিক্রি করে। ব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা হলেও মতিঝিলের খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারে বৃহস্পতিবার তা সর্বোচ্চ ১২৮ টাকায় কিনে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে।

মাইডাস সেন্টারে মুদ্রা ও ব্যাংকনোটের মহাযজ্ঞ: প্রদর্শনীতে লিডিয়া থেকে বাংলাদেশের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মাইডাস সেন্টারে মুদ্রা ও ব্যাংকনোটের মহাযজ্ঞ: প্রদর্শনীতে লিডিয়া থেকে বাংলাদেশের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস

এই অঞ্চলের মুদ্রা

প্রাচীন লিডিয়া থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম—মুদ্রা ও কাগজের নোটে লিপিবদ্ধ সভ্যতার দীর্ঘ অভিযাত্রাকে উপজীব্য করে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির ষষ্ঠ মুদ্রা প্রদর্শনী ২০২৬। বিচিত্র এই আয়োজনে ৪৩ জন সংগ্রাহকের সাজানো ৬১টি বিষয়ভিত্তিক সংগ্রহ স্থান পায়। উদ্বোধনী দিনে সংগঠনটির গবেষণাভিত্তিক মুখপত্র ‘বিএনসিএস জার্নাল’-এর প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়, যা মুদ্রা বিষয়ক অনুসন্ধান ও তথ্য সংরক্ষণের ধারাকে বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আয়োজনের একটি বড় আকর্ষণ ছিল সুদীপ্ত পালের ‘লিডিয়া টু জাহাঙ্গীরনগর’ শীর্ষক পরিবেশনা। এতে প্রায় আড়াই হাজার বছরের উপমহাদেশীয় মুদ্রা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় গান্ধার, মগধ, বঙ্গ, সমতট, মৌর্য, কুষাণ, গুপ্ত সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে দিল্লি সালতানাত, বাংলার সুলতানি আমল, মোগল ও ব্রিটিশ শাসন এবং পাকিস্তান পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পর্ব তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে উন্মোচিত হয় ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরের নামকরণের ঐতিহাসিক রূপান্তর। সংগ্রাহক সুদীপ্ত পাল জানান, পুরোনো জিনিসের প্রতি ভালোলাগা থেকেই তাঁর সংগ্রহের সূচনা, যা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সংগ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তথ্য অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক চর্চায় রূপ নেয়।

সংগঠনটির নেপথ্য ইতিহাস তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক এন এম আমিন জানান, ২০০৮ সালে ডাক ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগ্রাহকদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়, যা ২০০৯ সালে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমান আয়োজনটি তাদের ষষ্ঠ প্রদর্শনী। সদস্য হতে সক্রিয় সদস্যের সুপারিশ এবং নির্বাহী কমিটির অনুমোদন আবশ্যক। নিয়মিত নিলাম ও বৈঠকের পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সফর এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে তারা। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে মুঠোফোনের মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রেখে গবেষণাধর্মী শখের প্রতি আকৃষ্ট করাও তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কাগুজে মুদ্রার বৈচিত্র্য নিয়ে প্রদর্শনীতে ছিল শামসুল আলমের ‘জার্নি অব ওয়ান রুপি/টাকা ফ্রম ১৯১৭–১৯৯৩’, যেখানে ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতে প্রথম এক রুপির নোট চালুর ইতিহাস এবং শের শাহ সুরির রৌপ্যমুদ্রার পটভূমি তুলে ধরা হয়। এছাড়া মেজর পঙ্কজ মল্লিকের ‘মেডেলস অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস’, এম ডি নাজমুল হকের বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিককার মাটির ও ধাতব ব্যাংক নিয়ে ‘হিস্টোরিক্যাল কয়েন ব্যাংক’, আহসানুজ্জামান জুয়েলের মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতভিত্তিক ‘ওয়ার অ্যান্ড সোলজার’ এবং বস্ত্রশিল্পের বিবর্তন নিয়ে সাজানো ‘দ্য কটন স্টোরি’ দর্শকদের নজর কাড়ে।

স্বাধীন বাংলাদেশের পর্ব থেকে ১৯৭২ সাল-পরবর্তী সব মূল্যমানের নোট, নমুনা নোট, প্রথম ও শেষ ক্রমিক সংবলিত নোট, ত্রুটিপূর্ণ নোট এবং ৫০০ টাকার বিভিন্ন উপসর্গের নমুনা স্থান পায়। আন্তর্জাতিক অংশে ছিল বিলুপ্ত রাষ্ট্র, ঔপনিবেশিক আমল, ফকল্যান্ড যুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানির স্থানীয় স্বল্পমূল্যের নোট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের দখলকৃত অঞ্চলের নোট, পলিমার নোট, ক্যালিগ্রাফি ও মসজিদের ছবিযুক্ত নোট এবং বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ও বৃহত্তম নোট।

ধাতব মুদ্রার অংশে ছিল সোনারগাঁওয়ে প্রস্তুত সুলতানি মুদ্রা, ত্রিপুরার মুদ্রা, দুই সহস্রাব্দের স্বর্ণমুদ্রা, দেশীয় রাজ্যগুলোর মুদ্রা এবং সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদের আমলের মুদ্রা। প্রদর্শনীতে চীনের ছুরির মতো মুদ্রা, কাতাঙ্গা ক্রস, বোট মানি, বুলেট মানি, টাইগার টাং, লাইবেরিয়ার কিসি পেনি, চায়ের পাতা নির্মিত মুদ্রা, দাস বাণিজ্যে ব্যবহৃত ব্রেসলেট মুদ্রা ও ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের ব্যাংকনোটও প্রদর্শিত হয়। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে ২০১১ সালের ১০ টাকা মূল্যের ২২ দশমিক ১০ গ্রাম ওজনের ৯২৫ মানের রৌপ্যমুদ্রা (ব্যাস ৩৮ মিমি), একই বছর বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তির ২৫ গ্রাম ওজনের ৯৯৯ মানের ১০ টাকার রৌপ্যমুদ্রা এবং ২০১৩ সালে জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষে প্রকাশিত ১৮ শতকের অশ্বারোহী চিত্রসংবলিত স্মারক মুদ্রা বিশেষ গুরুত্ব পায়।