খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, দুদকের মামলায় তিন উপসচিব ওএসডি

আইন-আদালত ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত তিনজন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকারী এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ওএসডি হওয়া তিন সরকারি কর্মকর্তা হলেন জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিবিড় অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে কোটাসংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসার পর চলতি বছরের শুরুর দিকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকার কারণেই মূলত প্রশাসন তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার সময় অভিযুক্ত এই কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কোনো আবেদনই করেননি। অথচ পরবর্তীতে তাদের সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত কোটায় ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। মূল ফলাফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নথিপত্রে জালিয়াতি করে তাদের প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন নজিরবিহীন অনিয়ম জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

এদিকে অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন করে আসলেও বাকি তিনজন অন্য ক্যাডারেই বহাল রয়েছেন। তবে বাকিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অতীতে বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষায় কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে অকৃতকার্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করার মতো গুরুতর অভিযোগ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও উঠেছিল। এই ঘটনাটি সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

advertisement
advertisement

জাপানের বিগ–বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুযোগ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানের বিগ–বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুযোগ

জাপানের বিগ–বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুযোগ

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে জাপান সরকারের প্রণয়ন করা বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই মহাপরিকল্পনাটি সাধারণত বিগ বি ইনিশিয়েটিভ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এই উদ্যোগের আওতা ও পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগানো। এর মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ আরও সুগম করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানি অর্থায়ন ও প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের সম্প্রসারণের ফলে শুধু বড় বড় শিল্পকারখানা স্থাপনই নয়, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশীয় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সবমিলিয়ে জাপানের এই সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হবে।

৯৩০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং: পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৯৩০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং: পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

৯৩০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং: পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

অপরাধ ডেস্ক: বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের করা একটি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। একই আদেশে বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথি জব্দেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সূচনা ফাউন্ডেশন বিগত বেশ কয়েকটি করবর্ষে প্রায় এক কোটি টাকার মতো কর পরিশোধ না করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ভুয়া কর জমাসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র তৈরি এবং অডিট প্রতিবেদনে আয়কর খরচ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯৩০ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সূচনা ফাউন্ডেশনের আর্থিক অনিয়মের পেছনের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করতে এই নথিপত্র অত্যন্ত জরুরি। ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সাম্প্রতিক করবর্ষ পর্যন্ত যাবতীয় আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি দ্রুত জব্দ করা একান্ত আবশ্যক বলে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা।

অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং তার কোনো গোপন সম্পদ রয়েছে কি না তা যাচাই করতে আয়কর নথি জব্দের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদন দুটি মঞ্জুর করে প্রয়োজনীয় নথি জব্দের এই আদেশ দেন।

অভিযোগ আছে—অনেক বিচারক দুই-তিন ঘণ্টা আদালত করেন: আইনমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অভিযোগ আছে—অনেক বিচারক দুই-তিন ঘণ্টা আদালত করেন: আইনমন্ত্রী

অভিযোগ আছে—অনেক বিচারক দুই-তিন ঘণ্টা আদালত করেন: আইনমন্ত্রী

আইন-আদালত ডেস্ক: দেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং বিচারিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়াতে কড়া বার্তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিচারকদের সময়মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এ সময় কিছু বিচারকের বিরুদ্ধে কম সময় আদালত পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু স্থানে বিচারকদের কেউ কেউ প্রতিদিন মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা আদালতের কাজ পরিচালনা করে থাকেন। তারা অনেক ক্ষেত্রে বেলা ১১টার দিকে আদালতে আসেন এবং দুপুর দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যেই বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে চলে যান। এই ধরনের কর্মপদ্ধতি বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায় এবং বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ বিচারকদের ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী জানান যে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল খাতকে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, তরুণ বিচারকেরা যথেষ্ট স্মার্ট এবং তারা এই প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবিলা করবেন। বিচার বিভাগকে সাধারণ মানুষের পূর্ণ আস্থা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত করতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিচার বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ছেচল্লিশ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার জট দূর করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরকার এই চাপ কমাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই ই-জামিন বা ই-বেইল বন্ড চালুর ফলে সাধারণ মানুষ সুফল পেতে শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং হাজিরা দেওয়ার পদ্ধতিতেও আধুনিকায়ন আনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।