খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অভিযোগ আছে—অনেক বিচারক দুই-তিন ঘণ্টা আদালত করেন: আইনমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অভিযোগ আছে—অনেক বিচারক দুই-তিন ঘণ্টা আদালত করেন: আইনমন্ত্রী

অভিযোগ আছে—অনেক বিচারক দুই-তিন ঘণ্টা আদালত করেন: আইনমন্ত্রী

আইন-আদালত ডেস্ক: দেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং বিচারিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়াতে কড়া বার্তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিচারকদের সময়মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এ সময় কিছু বিচারকের বিরুদ্ধে কম সময় আদালত পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু স্থানে বিচারকদের কেউ কেউ প্রতিদিন মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা আদালতের কাজ পরিচালনা করে থাকেন। তারা অনেক ক্ষেত্রে বেলা ১১টার দিকে আদালতে আসেন এবং দুপুর দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যেই বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে চলে যান। এই ধরনের কর্মপদ্ধতি বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায় এবং বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ বিচারকদের ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী জানান যে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল খাতকে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, তরুণ বিচারকেরা যথেষ্ট স্মার্ট এবং তারা এই প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবিলা করবেন। বিচার বিভাগকে সাধারণ মানুষের পূর্ণ আস্থা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত করতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিচার বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ছেচল্লিশ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার জট দূর করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরকার এই চাপ কমাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই ই-জামিন বা ই-বেইল বন্ড চালুর ফলে সাধারণ মানুষ সুফল পেতে শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং হাজিরা দেওয়ার পদ্ধতিতেও আধুনিকায়ন আনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

advertisement
advertisement

ভোটের দিন লিফলেট বিতরণ, জামায়াত নেতাকে দণ্ড

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভোটের দিন লিফলেট বিতরণ, জামায়াত নেতাকে দণ্ড

ভোটের দিন লিফলেট বিতরণ, জামায়াত নেতাকে দণ্ড

আইন-আদালত ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে এক জামায়াত নেতাকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পর প্রচারণার নিয়ম না থাকলেও মাঠে লিফলেট বিতরণ করায় এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ঘটনার দিন দুপুরে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের একটি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আব্দুল করিম স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একটি ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা এই বিচারকাজ পরিচালনা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোটগ্রহণ শুরুর আগের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছিল। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের কার্যালয়ের ভেতর থেকেও বেশ কিছু লিফলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ প্রচারপত্র বা লিফলেট জব্দ করে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ।

আইন অমান্য করার অপরাধে মো. আব্দুল করিমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে আরও দুই নারী সমর্থকের কাছে লিফলেট পাওয়া গেলে তাদের কেবল মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

২০ বছর আগে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধার করে দিল এআই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর আগে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধার করে দিল এআই

২০ বছর আগে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধার করে দিল এআই

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইতালির একটি ছোট গির্জা থেকে দুই দশক আগে চুরি হওয়া ১৭ শতকের একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম অবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে নেপলসের নিকটবর্তী একটি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে সাধ্বী সেন্ট অ্যাগনেসের প্রতিকৃতিটি হারিয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক মিটার উচ্চতার এই ঐতিহাসিক চিত্রে এক তরুণীকে মেষশাবক ও খেজুরপাতা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে ছবিটির কোনো সন্ধান মেলেনি এবং এটি চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হয়েছিল।

সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীতে ছবিটির সন্ধান মিললেও এর রূপ সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়েছিল। চোরেরা ছবির মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে তরুণীর হাতের মেষশাবকের পরিবর্তে একটি পাণ্ডুলিপি বসিয়ে দেয় এবং মাথার চারপাশের জ্যোতির্বলয় মুছে ফেলে। এমনকি ছবির ওপর নতুন রঙের প্রলেপ দিয়ে এর আসল পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে সাধারণ চোখে কেউ একে চিনতে না পারে। ঐতিহ্যগতভাবে বর্ণনামূলক অনুসন্ধান বা মানুষের চোখের পক্ষে এই পরিবর্তিত রূপ ভেদ করে মূল চিত্রকর্মটি খুঁজে বের করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

এই জটিল সমস্যার সমাধানে ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা পুলিশ ইউনিটের প্রযুক্তিবিদরা সোয়াডস নামের একটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে চালু হওয়া এই এআই প্রযুক্তি শুধু শব্দের ওপর নির্ভর না করে ছবির রং, অবয়ব ও সূক্ষ্ম কারুকার্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ইতালির পুলিশের বিশাল তথ্যভান্ডারের সঙ্গে তুলনা করে এই যন্ত্রটি পরিবর্তিত চিত্রকর্মটির আসল পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর পরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে চিত্রকর্মটি উদ্ধার করতে সমর্থ হন।

প্রযুক্তির এই আধুনিক ব্যবহারের ফলে কেবল এই চিত্রকর্মটিই নয়, বরং গত কয়েকমাসে আরও বহু প্রাচীন নিদর্শন ও শিল্পকর্ম উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে তিন শতাধিক বড় চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য এবং লক্ষাধিক প্রাচীন মুদ্রা ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যেসব শিল্পকর্মের চেহারা পরিবর্তন করা হয়েছে বা টুকরো করে বিক্রি করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। উদ্ধার হওয়া সেন্ট অ্যাগনেসের সেই ঐতিহাসিক ছবিটি পরে যথাযথ সম্মান ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তার নিজ ঠিকানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাপানের বিগ–বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুযোগ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানের বিগ–বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুযোগ

জাপানের বিগ–বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুযোগ

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে জাপান সরকারের প্রণয়ন করা বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই মহাপরিকল্পনাটি সাধারণত বিগ বি ইনিশিয়েটিভ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এই উদ্যোগের আওতা ও পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগানো। এর মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ আরও সুগম করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানি অর্থায়ন ও প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের সম্প্রসারণের ফলে শুধু বড় বড় শিল্পকারখানা স্থাপনই নয়, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশীয় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সবমিলিয়ে জাপানের এই সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হবে।