খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ভারত পানি না দিলে ভারতীয় পণ্য, করিডর ও ট্রানজিট বন্ধ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভারত পানি না দিলে ভারতীয় পণ্য, করিডর ও ট্রানজিট বন্ধ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

ভারত পানি না দিলে ভারতীয় পণ্য, করিডর ও ট্রানজিট বন্ধ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত এক যুব সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারতের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই বিএনপি বর্তমান ক্ষমতায় এসেছে বলে এ সময় অভিযোগ করেন তিনি। দেশের স্বার্থরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির হিস্যা আদায় না হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের নদ-নদীতে যদি পর্যাপ্ত পানি না আসে, তবে বাংলাদেশে কোনো ভারতীয় পণ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে কোনো ধরনের করিডর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না এবং দেশের ভেতরে কোনো ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলও সম্প্রচার করতে দেওয়া হবে না। অনুষ্ঠানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকারের চলমান আলোচনা ও চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো অবিলম্বে জনসাধারণের সামনে স্পষ্ট করার জোরালো দাবি জানান তিনি।

রাষ্ট্রের সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ তুলে এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সময়কার সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, সরকার গঠিত নতুন কোনো কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নেবে না। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। বর্তমান সরকারের বিগত আট মাসের কার্যক্রমে তরুণদের কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। পোশাকশ্রমিকদের চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি পুলিশি দমনপীড়ন বন্ধ এবং আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

advertisement
advertisement

বাংলাদেশকে ধবলধোলায়ের হুমকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাংলাদেশকে ধবলধোলায়ের হুমকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের

বাংলাদেশকে ধবলধোলায়ের হুমকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের

খেলা ডেস্ক: মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে সহজেই পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। মাত্র চার দিনের মধ্যে আট উইকেটের এই বড় জয় ক্যারিবীয় শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এই জয়ের পর সফরকারীদের মূল লক্ষ্য এখন শেষ ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজে ধবলধোলাই করা। প্রথম টেস্টে ফ্লাডলাইটের জটিলতা এবং বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু ওভার নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ক্যারিবীয়রা দুর্দান্ত পারফর্ম করে মাঠ ছেড়েছে।

ম্যাচটিতে পরাজয় ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের রেকর্ড বেশ ভালো। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মাটিতে সবশেষ সাতটি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ দল সেরা পাঁচের মধ্যে অবস্থান করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে আট নম্বরে। তা সত্ত্বেও মিরপুরের বাইশ গজে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অতিথিরা।

ম্যাচ শেষে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের অফিশিয়াল ভিডিও বার্তায় দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশের মাটিতে এসে জয় ছিনিয়ে আনা কখনোই সহজ কাজ নয় এবং তাদের দলের মানসিকতা সবসময় জয়ের জন্যই প্রস্তুত। দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের মাঝে জয়ের যে ক্ষুধা দেখা যাচ্ছে, তা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বছরটি একটি ইতিবাচক ফলাফলের মাধ্যমে শেষ করতে তারা অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আরেক ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ফিল সিমন্স, যার প্রশংসা করতে ভোলেননি ড্যারেন স্যামি। তিনি স্বীকার করেছেন যে ফিল সিমন্সের অধীনে বাংলাদেশ দল টেস্ট ক্রিকেটে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করছে এবং প্রতিপক্ষকে সহজে ছেড়ে দেবে না। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে বাংলাদেশের নিজস্ব লক্ষ্য ও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিজেদের খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম এবং সার্বিক প্রস্তুতি দেখে কোচ স্যামি আত্মবিশ্বাসী যে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী ম্যাচের জন্যও তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচের এই দাপুটে জয়কে পুঁজি করে শেষ ম্যাচেও বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় ক্যারিবীয়রা। বার্বাডোজে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্র শুরু হওয়ার সময় যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা অর্জনের জন্য মুখিয়ে রয়েছে পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরাতে মুখিয়ে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলও।

বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

আইন-আদালত ডেস্ক: সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও শাস্তির বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন। রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান আদালতের পক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন।

চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার সঙ্গে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অসাংবিধানিক ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আর্জি জানিয়ে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিট আবেদনকারীর মূল যুক্তি ছিল যে, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের যে সংজ্ঞা এবং শাস্তির বিধান এই ধারায় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে চিন্তা, বিবেক এবং বাক্স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তার ওপর অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

মূলত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য, কিংবা কোনো চিহ্ন বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা অবজ্ঞা তৈরি করার চেষ্টা করেন কিংবা অসন্তোষ উসকে দেন, তবে তার জন্য যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সরকারের কোনো কাজের সমালোচনা করা অপরাধ নয়, যদি না তার মাধ্যমে সরকারের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা বা অসন্তোষ ছড়ানোর উদ্দেশ্য থাকে।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছেন যে, এই ধারার কারণে কোনো নির্দিষ্ট নাগরিক বা ব্যক্তি বাক্স্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কিংবা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা জোরালো অভিযোগ রিট আবেদনে তুলে ধরা হয়নি।

আদালত মনে করেন যে, পর্যাপ্ত ভিত্তি বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুপস্থিতিতে এই রিট আবেদনটির কোনো বাস্তব সারবত্তা নেই, যার ফলে এটি খারিজের যোগ্য। আদালতে রিটকারী আইনজীবী নিজেই শুনানিতে অংশ নেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিকে আকর্ষণীয় করছেন ভুটানের ‘ফার্মফ্লুয়েন্সার’ নারীরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃষিকে আকর্ষণীয় করছেন ভুটানের ‘ফার্মফ্লুয়েন্সার’ নারীরা

কৃষিকে আকর্ষণীয় করছেন ভুটানের ‘ফার্মফ্লুয়েন্সার’ নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে কৃষিকাজকে একটি লাভজনক ও আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে তুলে ধরছেন ভুটানের দুই উদ্যমী তরুণী। টিকটক এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে নিজেদের দৈনন্দিন কৃষিকাজের নানা মুহূর্ত শেয়ার করে তাঁরা তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর চেষ্টা করছেন। ভুটানের পশ্চিম অঞ্চলের পারো উপত্যকা ও বাজো এলাকার এই দুই তরুণীর কার্যক্রম ইতিমধ্যেই দেশটিতে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। তাঁদের এই সৃজনশীল উদ্যোগ কেবল অনলাইনে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি, বরং অনেক তরুণকে কৃষিকাজের প্রতি নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।

পারো উপত্যকার পঁচিশ বছর বয়সী কৃষক সোনাম জাম পপ তাঁর দৈনন্দিন কৃষিকাজের ভিডিও নিয়মিত টিকটকে প্রকাশ করে থাকেন। জমিতে বীজ বপন করা থেকে শুরু করে পরিপক্ব আলু তোলার মতো প্রতিটি ধাপে করা তাঁর ভিডিওগুলো হাজার হাজার মানুষ সানন্দে উপভোগ করছেন। এছাড়া ইংরেজি ভাষার ইউটিউব চ্যানেল সোনামস ভিলেজ ডায়েরির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। পরিবারের একমাত্র কন্যা হিসেবে বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখভালের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একসময় কৃষিকাজে যুক্ত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়।

একইভাবে পশ্চিম ভুটানের বাজো এলাকার আটাশ বছর বয়সী পাসাং ওমও সামাজিক মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক নানা কনটেন্ট তৈরি করে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। মূলত পারিবারিক পর্যটন ব্যবসার প্রসারের উদ্দেশ্যে অনলাইনে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তিনি কৃষিকাজের গুরুত্ব ও সৌন্দর্য তুলে ধরার কাজে মনোনিবেশ করেছেন। টিকটকে হাজার হাজার অনুসারী এবং ইউটিউবে নিয়মিত গ্রাহক নিয়ে তিনি সরিষা শাক রোপণ, ধানখেতে আগাছা পরিষ্কার কিংবা গ্রীষ্মকালীন সবজির পরিচর্যার মতো কাজগুলো ভিডিওর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর এই অনলাইন কার্যক্রমে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পর্যটন সংস্থাও এখন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতির প্রসারেও ভূমিকা রাখছে।

ভুটানের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষিখাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও উন্নত জীবনের টানে তরুণ প্রজন্মের গ্রাম ছেড়ে শহর কিংবা বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে মারাত্মক শ্রমিকসংকট দেখা দেওয়ায় ভুটান সরকার তরুণদের জন্য আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামমুখী করার নানা কৌশল নিয়ে কাজ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে সম্প্রতি এক সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন যে, কেবল কৃষির গুরুত্ব বোঝালেই তরুণেরা এই পেশায় আসবে না, বরং তাদের সামনে কৃষির সম্মান ও ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে দেখাতে হবে। রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ভুটানের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা তরুণ নারীদের এই অনলাইন উদ্যোগকে কৃষি সচেতনতা বাড়াতে এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন।