খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

আইন-আদালত ডেস্ক: সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও শাস্তির বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন। রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান আদালতের পক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন।

চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার সঙ্গে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অসাংবিধানিক ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আর্জি জানিয়ে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিট আবেদনকারীর মূল যুক্তি ছিল যে, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের যে সংজ্ঞা এবং শাস্তির বিধান এই ধারায় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে চিন্তা, বিবেক এবং বাক্স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তার ওপর অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

মূলত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য, কিংবা কোনো চিহ্ন বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা অবজ্ঞা তৈরি করার চেষ্টা করেন কিংবা অসন্তোষ উসকে দেন, তবে তার জন্য যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সরকারের কোনো কাজের সমালোচনা করা অপরাধ নয়, যদি না তার মাধ্যমে সরকারের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা বা অসন্তোষ ছড়ানোর উদ্দেশ্য থাকে।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছেন যে, এই ধারার কারণে কোনো নির্দিষ্ট নাগরিক বা ব্যক্তি বাক্স্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কিংবা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা জোরালো অভিযোগ রিট আবেদনে তুলে ধরা হয়নি।

আদালত মনে করেন যে, পর্যাপ্ত ভিত্তি বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুপস্থিতিতে এই রিট আবেদনটির কোনো বাস্তব সারবত্তা নেই, যার ফলে এটি খারিজের যোগ্য। আদালতে রিটকারী আইনজীবী নিজেই শুনানিতে অংশ নেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
advertisement

এক দিনের নোটিশে বাসাছাড়া, কাল সেমিস্টার ফাইনাল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এক দিনের নোটিশে বাসাছাড়া, কাল সেমিস্টার ফাইনাল

এক দিনের নোটিশে বাসাছাড়া, কাল সেমিস্টার ফাইনাল

জাতীয় ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পরিবেশনা কলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট হিসেবে বসবাস করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁকে এই পথ বেছে নিতে হয়েছিল। সম্প্রতি সরকারি আবাসন থেকে ভাড়াটে ও সাবলেট সরিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়। এর ফলে স্বল্প সময়ের নোটিশে আকস্মিকভাবে তাঁকে বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়, যা তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

৩১ অক্টোবরের মধ্যে কলোনি খালি করার নির্দেশ আসার পরপরই চরম বিপাকে পড়েন এই তরুণী। ঠিক এমন একটি সময়ে এই সিদ্ধান্ত আসে যখন তাঁর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছিল। হঠাৎ বাসা ছাড়ার নোটিশ পেয়ে তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েন এবং জিনিসপত্র সরানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ট্রাক বা পরিবহনও জোগাড় করতে পারেননি। আত্মীয় ও বন্ধুদের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মালপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিলেও এই আকস্মিক পরিবর্তন তাঁর পড়াশোনা ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মোহাম্মদপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিলেও সেখানে পড়াশোনার মতো অনুকূল পরিবেশ একেবারেই অনুপস্থিত। ডাইনিংরুমে গাদাগাদি করে থাকার ফলে আলো-বাতাসের ঘাটতি রয়েছে এবং পাঁচ সদস্যের পরিবারে নিজের মতো মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাছাড়া, কলোনির নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের সুবিধা হারিয়ে এখন প্রতিদিন দীর্ঘপথ যাতায়াত এবং বাড়তি খরচ মেটানোর দুশ্চিন্তাও তাঁর কাঁধে চেপে বসেছে।

আজিমপুর সরকারি কলোনি থেকে সাবলেট বাসিন্দাদের উচ্ছেদের এই পদক্ষেপে শুধু আনিয়া একা নন, তাঁর মতো অনেক শিক্ষার্থী ও হোস্টেল ব্যবসায়ীও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন। ছাত্রীরা কলোনি ছেড়ে চলায় আশপাশের অনেক হোস্টেল ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন নতুন করে আসন খোঁজার চাপ তৈরি হয়েছে। আবাসনসংকটের এই আকস্মিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বহুমুখী চাপে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর

৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পুলিশ ক্যাডারের ৩০তম ও ৩১তম ব্যাচের মোট তিনশ সাতান্ন জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাজনিত বিভিন্ন তথ্য জরুরি ভিত্তিতে চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো এক বিশেষ নির্দেশনায় আগামী মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এই বিশাল বহরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩০তম ব্যাচের একশ ঊনআশি জন এবং ৩১তম ব্যাচের একশ আঠারো জন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই তথ্য তলব করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাঠানো এই নির্দেশনামূলক চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালিকাভুক্ত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বে বা বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি কোনো মামলা থেকে থাকে তবে সেটির বর্তমান আইনি অবস্থা এবং সর্বশেষ আপডেট কী, তা বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য কাগজের কপি এবং ডিজিটাল ফাইল বা সফট কপি—উভয় মাধ্যমেই পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে হবে। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দ্রুততার সঙ্গে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক এবং বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত অক্টোবরের শেষ দিকে পারসোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখা থেকেও একই ধরনের কর্মকর্তাদের বিভাগীয় শৃঙ্খলা এবং ফৌজদারি মামলার তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার জন্যই মূলত ক্রাইম অ্যানালাইসিস শাখা থেকে নতুন করে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান তালিকায় থাকা এই তিনশ সাতান্ন জন কর্মকর্তা সবাই বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অথবা অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার পদমর্যাদায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলা পুলিশের পাশাপাশি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত রয়েছেন। তালিকার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলের বিবরণীর পাশাপাশি কয়েকজনের বিশেষ পেশাগত অবস্থার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন এই তালিকায় থাকা একজন কর্মকর্তা বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় আছেন এবং অন্য আরেকজন বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে তালিকাভুক্ত সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। মূলত এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, থেকে থাকলে সেগুলোর আইনি অগ্রগতি কী এবং কোনো বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত এই সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর পুলিশ প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেশের কৃষি উৎপাদন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই তথ্য অনুযায়ী এক বছরের ব্যবধানে দেশে পেঁয়াজ ও আমন ধানসহ বেশ কিছু কৃষিপণ্যের উৎপাদন সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে প্রধান খাদ্যপণ্য আলুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে যা কৃষিমহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ছয় লাখ টন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে পেঁয়াজের মোট উৎপাদনের পরিমাণ যা ছিল তা পরবর্তী সময়ে শতকরা হিসাবে আঠারো ভাগের বেশি বেড়ে গেছে। কৃষকরা পর্যাপ্ত দাম পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের সুবিধা উন্নত হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি রসুন এবং শীতকালীন মরিচের আবাদ ও ফলনও আগের তুলনায় সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপরীত চিত্র দেখা গেছে আলুর ক্ষেত্রে যেখানে ফলন প্রায় তিন লাখ টন কমেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে বিগত বছরগুলোতে কৃষকরা আলুর আশানুরূপ বাজারমূল্য না পাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। হিমাগারে রেখেও সঠিক দাম না পাওয়ায় চাষিরা পরবর্তীতে আলু চাষের জমি কমিয়ে দিয়েছেন। শুধু আলু নয় বরং গম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সামান্য নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ধানের বাজারে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে আমন ধানের উৎপাদন যা আগের তুলনায় প্রায় আট লাখ টন বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত এই উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়া শীতকালীন ভুট্টা এবং সয়াবিনের উৎপাদনও বেশ ভালো পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিশ্রমিকদের দৈনিক মজুরির একটি চিত্রও উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। অঞ্চলভেদে পুরুষ ও নারী কৃষিশ্রমিকদের মজুরিতে তারতম্য রয়েছে এবং কাজের ধরন ও খাবারের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে এই মজুরি নির্ধারিত হয়। দেশের বিভিন্ন উপজেলার নমুনা সংগ্রহ করে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।