খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫

দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫

জাতীয় ডেস্ক: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের তরুণ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শৈশবে দুই হাত হারালেও শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরে যাননি এই মেধাবী শিক্ষার্থী। প্রথমে মুখে এবং পরবর্তীতে পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম গুঁজে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। এই দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়েই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—উভয় পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ অর্জনের গৌরব অর্জন করেছেন রাব্বি। তার এই অসামান্য সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষানুরাগীরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়ে রাব্বি। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী এলাকার একটি ফুটওভারব্রিজে চলন্ত অবস্থায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় সে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও কনুই পর্যন্ত দুটি হাতই কেটে ফেলতে হয় চিকিৎসকদের। এই বড় ধরনের আঘাতের পরও দমে যায়নি রাব্বি, বরং দ্বিগুণ উৎসাহে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নেয় সে। প্রাথমিক পর্যায়ে মুখে কলম কামড়ে ধরে লেখার চেষ্টা করলেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেই অভ্যাস বজায় রেখেছিল রাব্বি। পরবর্তীতে নিজের সুবিধার্থে পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম রেখে লেখার নতুন কৌশল রপ্ত করে এবং অনুশীলনের মাধ্যমে তা নিখুঁত করে তোলে।

এই দীর্ঘ পথচলায় রাব্বির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তার পরিবারের সদস্য ছাড়াও এলাকার অনেক শিক্ষক ও গুণীজন। স্থানীয় হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সে চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়। এরপর সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন এই তরুণ। বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ফেরদৌসী কাদরীসহ অনেক শিক্ষানুরাগী তার পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। এ ছাড়া ওসমান নামের এক স্থানীয় শিক্ষক কোনো ধরনের পারিশ্রমিক ছাড়াই তাকে নিয়মিত পড়িয়েছেন এবং তার মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করেছেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন রাব্বি।

রাব্বির এই অনুপ্রেরণাদায়ক সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্প্রতি তাকে বিশেষ সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংগঠন এসবিএস অ্যাসোসিয়েশন তার উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাব্বি দেশের যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বা প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেলে কোচিং থেকে শুরু করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত সমস্ত খরচ তারা বহন করবে। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন রাব্বি। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা শেষ করে একটি সরকারি চাকরি নিয়ে নিজ পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করতে চান এই অদম্য মেধাবী তরুণ।

advertisement
advertisement

চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে বন্দোবস্ত পাওয়া প্রায় সাড়ে চার শ একর জমি একটি প্রভাবশালী মহলের কব্জায় চলে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত দুই শ ত্রিশটি ভূমিহীন পরিবার। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার পরও প্রভাবশালী চক্রের কারসাজিতে নিজেদের জমি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এসব অসহায় মানুষ। জমির আইনগত অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা ফিরে পেতে অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই হাজার চার থেকে দুই হাজার পাঁচ অর্থবছরে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে চরফ্যাশন উপজেলার ১০১ নম্বর চর আইচা মৌজার সংশ্লিষ্ট শিটে দুই শ ত্রিশ জন ভূমিহীন ব্যক্তির নামে প্রায় চার শ পঞ্চান্ন একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। বৈধভাবে এই সম্পত্তি পাওয়ার পর থেকে দরিদ্র প্রজারা নিয়মিত সরকারি কোষাগারে খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ ও বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ও বিত্তশালী মহল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জবরদখলের মাধ্যমে এই বিশাল পরিমাণ জমি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা নামে-বেনামে নানা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং অসহায় পরিবারগুলোর জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছেন। স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক ও মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালীরা কোনো তোয়াক্কা করেননি। উল্টো তাঁরা জমির প্রকৃত মালিকদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়া করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চক্রের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাঁরা যে জমিতে চাষাবাদ করছেন, তা অভিযোগকারীদের নয় বরং ভিন্ন মৌজার সম্পত্তি। অন্যদিকে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রকৃত ভূমিহীনদের হাতে তাঁদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

শিক্ষা ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক সাবেক নেতাকে আটক করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি রোববারের ওই ঘটনায় অর্ক সাহা নামের ওই সাবেক ছাত্রনেতাকে আটক করার পর শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও তিনি গোপনে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রোববারের বিকেলে জগন্নাথ হলের একটি ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ার সময় ওই সাবেক নেতাকে চিনতে পারেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ঘিরে ধরে পাকড়াও করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রক্টরিয়াল টিম ও হল কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম এবং হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ ডেকে তার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল গণমাধ্যমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ছাত্রলীগের পদধারী কোনো শিক্ষার্থীর জন্যই হলে বর্তমানে কোনো আসন বরাদ্দ নেই এবং ইতিপূর্বেই তাদের সবার সিট বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্ত অর্ক সাহা মাঝে মাঝে হলে লুকিয়ে যাতায়াত করতেন এবং শিক্ষার্থীরা তাকে দেখতে পেয়ে আটক করেন। হলে প্রবিধান অমান্য করে এমন কেউ লুকিয়ে অবস্থান করছে কি না, তা নিয়ে হল প্রশাসন এখন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে জগন্নাথ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ধ্রুব রায় দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত নেতা দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় হলে গোপনে অবস্থান করছিলেন বলে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি জগন্নাথ হলের সামনে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার সঙ্গেও অর্ক সাহার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বকশীগঞ্জে ছেলের দায়ের কোপে মায়ের মৃত্যু

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

ময়মনসিংহ: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ছেলের দায়ের কোপে রাবেয়া খাতুন নামে নারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুরের পৌর এলাকার মালিরচর সরকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক ছেলে জাহিদকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। নিহত রাবেয়া খাতুন (৫৫) বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার মালিরচর সরকারপাড়া এলাকার মৃত হযরত আলীর স্ত্রী।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে ছেলের বৌ মিশি আক্তারের সাথে […]

The post বকশীগঞ্জে ছেলের দায়ের কোপে মায়ের মৃত্যু appeared first on প্রতিদিনের ময়মনসিংহ.