জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয় ডেস্ক: দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা ও শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিনির্ধারকদের নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের শিল্পকারখানা ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষা করা বর্তমান প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না। দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন সচল রাখতে প্রশাসনের সকল বিভাগকে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ কলকারখানা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ জনগণের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা দিতে দেশের প্রতিটি নাগরিককেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কোনো মহল যেন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। মন্ত্রীর মতে, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো এই শিল্পখাত, তাই যেকোনো মূল্যে এর নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিল্পাঞ্চলে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিক, শ্রমিক ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এই বৈঠকে।
এদিকে আসন্ন ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, একটি বিশেষ চক্র বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল ও বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে এই ধরনের দেশবিরোধী ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য নানা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা দেশের অগ্রগতির পথে অন্তরায়। এই অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের চলমান নানা সমসাময়িক ইস্যু এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে পোশাক খাতের সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন এবং মিরপুর এলাকার অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন। উক্ত বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সরকারের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকরা বৈঠকে অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন